মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। কিন্তু সেই প্রকল্প যেন দিনদিনে ‘প্রত্যাখ্যান প্রকল্প’ হয়ে যাচ্ছে। একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের তরফে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের নাম শুনলেই ফেরানো হচ্ছে রোগীকে। গুরুতর কোনও রোগী থাকলেও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য রোগীকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করছে বেসরকারি হাসপাতালগুলি। কিন্তু কেন?
রাজ্যের গরীব ও মধ্যবিত্ত মানুষ যাতে অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই কারণে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতি পরিবার পিছু বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ পাওয়া যায় এই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে। রাজ্য ও ভিনরাজ্য মিলিয়ে মোট ২৩টি হাসপাতাল এই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় রয়েছে বলে জানা যায়।
কিন্তু তা সত্ত্বেও বারবার অভিযোগ এসেছে যে অনেক বেসরকারি হাসপাতালই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসার নাম শুনলেই রোগীকে ভর্তি নিতে চায় না। এই নিয়ে এক সংবাদমাধ্যমের তরফে একটি অন্তর্তদন্ত চালানো হয়। সেই সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা রাজ্যের নানান বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালে ফোন করেন ও জানান যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে কোনও এমার্জেন্সি রোগীকে ভর্তি করানো হবে।
কিন্তু শুনতে অবাক লাগলেও, প্রত্যেকটি হাসপাতালের তরফে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের নাম শুনেই সেই রোগীকে ভর্তি না নেওয়া বা স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে চিকিৎসা না দেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। সেই সংবাদমাধ্যমের তরফে পিয়ারলেস হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেলভিউ, সঞ্জীবনী, মেডিকা এমন নানান নামী বেসরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু প্রত্যেক হাসপাতালই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা করতে অস্বীকার করে।
কিন্তু এমনটা বারবার কেন হচ্ছে? এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে কোনও বেসরকারি হাসপাতাল যদি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে রোগীকে ফেরায় তাহলে সেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি, ওই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কিন্তু এই প্রত্যাখ্যান থামছে না।
অনেক বেসরকারি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের মতে, সরকারের তরফে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রচুর টাকা বকেয়া থেকে যাচ্ছে। বারবার বলা সত্ত্বেও সরকার তা মেটাতে পারছে না। তাদের কথায়, হাসপাতালে ১০ শতাংশ বেড স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসার জন্য আলাদ করা থাকে। কিন্তু সেই বেড কখনই খালি থাকে না। সেই কারণেও ফেরানো হয় রোগীদের।
বেসরকারি হাসপাতালগুলির কথায়, দিনের পর দিন যদি টাকা বকেয়া থাকে, তাহলে তাদেরও পদক্ষেপ নিতে হবে। সিস্টেম অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। এমনও বলা হয় যে আয়ুষ্মান নিয়ে তো এত প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ আসে না, তাহলে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে কেন এত অভিযোগ?





