বর্ষশেষের আগে বড় ভাঙন শাসকশিবিরে, লোকসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপিতে যোগ একাধিক তৃণমূল নেতার

বছর গড়ালেই লোকসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে প্রস্তুতি তুঙ্গে। নির্বাচনের আগে দলবদলের একটা ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যায় সবসময়। একুশের নির্বাচনের আগে কাতারে কাতারে নেতা-কর্মী তৃণমূল ছেড়ে ভিড়েছিল পদ্ম শিবিরে। তবে ভোটে বিজেপির ভরাডুবি হতে ফের অনেকেই তৃণমূলে ওয়াপসি করে। এবার ফের শুরু হল দলবদল।

লোকসভা নির্বাচনের আগে শীতলকুচির রাজনীতিতে দলবদল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের হাত ধরে পদ্ম শিবিরে যোগ দিলেন বেশ কিছু তৃণমূল নেতা-কর্মী। এর জেরে উত্তরে বিজেপির ঘাঁটি যে শক্ত হল, তা বলাই বাহুল্য।

গতকাল, শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের হাত থেকে বিজেপির দলীয় পতাকা তুলে নেন শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের লালবাজার অঞ্চলে তৃণমূলের অঞ্চল কমিটির সহ-সভাপতি বিনোদ বর্মন এবং তাঁর অনুগামীরা। দলবদলের পর লালবাজার অঞ্চল সহ সভাপতি বিনোদ বর্মন বলেন, “তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এলাম। এতদিন ধরে অঞ্চল সহ সভাপতি পদে ছিলাম। এখন এত গোষ্ঠীকোন্দল যে কারও সঙ্গেই কারও মত মেলে না। তাই দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করলাম”।

লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শাসক শিবিরে গোষ্ঠীকোন্দল প্রকট হচ্ছে। জেলায় জেলায় ঘটছে দলবদল। যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবী, কেউ যদি পদ বা ক্ষমতার লোভে দলবদল করে, তাহলে তাদের দলে না থাকাই ভালো। যে পদেই কেউ থাকুন না কেন, মানুষের স্বার্থেই কাজ করতে হবে। কিন্তু নেতৃত্বের দাবী, কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থই প্রাধান্য পাচ্ছে।  

অন্যদিকে, পাল্টা বিরোধীদের দাবী, তৃণমূলের অন্দরে থেকে কাজ করার সুযোগ নেই। সবেতেই টাকার খেলা চলে বলেও অভিযোগও করেন তারা। এই পরিস্থিতির সঙ্গে যারা মানিয়ে নিতে পারছেন না, তারা দল ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন রাজনীতি করা মানুষ রাজনীতি থেকে দূরে থাকতেও পারেন না। সেই কারণেই দলবদল ঘটছে বলে দাবী বিরোধী নেতৃত্বের।

আরও অন্যান্য খবর