গতকালই দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। তাঁর অভিযোগ, তিনি দলের হয়ে কাজ করতে চাইলেও এমন কেউ বা কারা আছেন, যারা চাননা তিনি করুন। তাছাড়া, তিনি আরও বলেন যে তিনি নিজের কর্তব্য পালন করতে চান। তিনি যদি কোনও সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি তা আগামী ১৬ই জানুয়ারি দুপুর ২টোর সময় তা জানাবেন।
এরপর থেকে জল্পনা শুরু হয়েছে শতাব্দীর দল ছাড়া নিয়ে। অনেকেরই ধারণা, তিনিও হয়ত তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতেই ঘাঁটি গেঁড়ে বসবেন। তবেই সবটাই আন্দাজ মাত্র।
এদিকে শতাব্দী রায়ের এই ধরণের মন্তব্যের পর দলের বিরুদ্ধে বেসুরো হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা কাঁথির তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী। কয়েকদিন আগেও তিনি দলের হয়েই মত পোষণ করেছেন। বলেছেন যাই হোক না কেন, তিনি তৃণমূলেই রয়েছেন। তিনিই এবার বেসুরো হয়ে বললেন তাঁর কাছে সমস্ত সম্ভাবনাই খোলা রয়েছে।
গত ১২ই জানুয়ারি তাঁকে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়। এর ঠিক পরদিনই ফের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সভাপতির পদ থেকে শিশির অধিকারীকে অপসারিত করে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁর জায়গায় নতুন সভাপতি মনোনীত করা হয় সৌমেন মহাপাত্রকে।
দুটি পদ হারিয়ে স্বভাবতই নিজের দুঃখপ্রকাশ করেন শিশিরবাবু। কিন্তু তবুও তখনও তিনি বলেছিলেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন। তবে দলীয় নেতৃত্বের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন তিনি। দলের সঙ্গে থাকার কথা বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর গলায় বাজল বেসুরো সুর। গতকাল, বৃহস্পতিবার এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বেশ জোর গলাতেই বলেন, “আমি আমার অনুগামীদের সঙ্গে কোথা বলে পরবর্তী পদেক্ষেপ করব। সমস্ত রকম সম্ভাবনার রাস্তা খোলা রয়েছে”। এরপর দলের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি কোনও জড়বস্তু নই যে যেখানে খুশি আমাকে ফেলে রাখা হবে”।
শিশিরবাবুর এই কথার মধ্যে দিয়ে বেশ পরিষ্কার যে তিনি দলের প্রতি বেসুরো হয়েছেন। তবে এরপর তিনি ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেন বা দল ছেড়ে তিনি ছেলে শুভেন্দু অধিকারীর মতো গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন কী না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।





