গতকাল, শনিবার দু’দিনের রাজ্য সফরে আসার কথা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্’র। এরপর আজ রবিবার হাওড়ার সভা থেকেই শাহ্’র উপস্থিতিতেই বিজেপি যোগ দেওয়ার কথা ছিল রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অন্যান্য তৃণমূলত্যাগী নেতা-বিধায়কদের। কিন্তু শুক্রবার বিকেলে দিল্লির ইজরায়েল দূতাবাসের সামনে আইইডি বিস্ফর হওয়ায় শাহ্’র বাংলা সফর বাতিল হয়ে যায়। এরপর কানাঘুষো শোনা যায় যে অমিত শাহ্’র বদলে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং হয়ত বাংলা সফরে আসবেন। তবে শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভরসা রাখেন স্মৃতি ইরানির উপর। আর অমিত শাহ যে কোনও ভুল সিদ্ধান্ত নেন নি, তা আজ হাওড়ার ডুমুরজোলা সভাতে প্রতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রমাণ দিলেন স্মৃতি নিজেই। সভা থেকে একের পর এক তীব্র বাক্যবাণে শাসকদলকে বিঁধলেন তিনি।
এদিন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আগাগোড়া বাংলাতেই নিজের বক্তব্য রাখেন স্মৃতি। তাঁর মা বাঙালি। তাই বাংলা ভাষার উপর বেশ ভালোই দখল রয়েছে বিজেপি নেত্রীর। জয় শ্রী রাম দিয়েই নিজের ভাষণ শুরু করেন স্মৃতি। বিজেপি নেতৃত্ব যেমন বারবার শাসকদলকে চাল চোরের সরকার বলে দেগে এসেছে, এদিন কেন্দ্রীয় নেত্রীও সেই একই পন্থা অবলম্বন করলেন। করোনা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে লকডাউন, আমফান কিছুই বাদ রাখলেন না তিনি। বলেন, “তৃণমূল লকডাউনে চালডাল চুরি করেছে। শুধুমাত্র তৃণমূলের লোকেরাই খাদ্যের কুপন পেয়েছে। গরীব মানুষ যখন খাবার চেয়েছে, দিদির পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করেছে”।
এদিন কাটমানি নিয়েও তৃণমূল সুপ্রিমোকে দেগেছেন স্মৃতি। তাঁর অভিযোগ, “আপনার দলের একজন নেতার বিরুদ্ধেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দলের নেতারাই অভিযোগ তুলেছে, তাও কিছু করেননি”। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি প্রশ্ন রাখেন যে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া মানুষরা কী ভাইরাস?
এদিন সভায় ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানে আপত্তি নিয়েও তৃণমূলকে বিঁধেছেন স্মৃতি। তিনি বলেন যে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির অপমান যারা করেন, তাঁরা দেশভক্ত নন। তিনি এও তৃণমূল নেত্রীকে মনে করান যে তিনি যতই ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির অপমান করুন না কেন, বাংলাতে পদ্মফুলই ফুটবে। এও বলেন যে, “দিদি আপনি পাপ করছেন, বাংলার মানুষ আপনাকে ক্ষমা করবে না”। এরপর সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে সুর মিলিয়েই স্মৃতি ইরানির বাংলার মানুষকে পরামর্শ “চুপচাপ, পদ্মে ছাপ”।





