খেতে চাইলেই মারধর, অত্যাচার, সম্পত্তি নিয়ে অশান্তি, বৃদ্ধা মা-কে মারধর করে কনকনে ঠাণ্ডায় বাড়ি থেকে বের করে দিল ছেলে

একজন মা নিজের সন্তানের জন্য যে কী কী করতে পারেন, তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। সন্তানকে ভালো রাখতে, আনন্দে রাখতে যে কোনও সীমা অতিক্রম করতে পারেন একজন মা। কিন্তু সেই সন্তানই যখন বড় হয়ে মা-কে অবহেলা করে, তার ঠেলে কষ্টের বোধ হয় একজন মায়ের জন্য আর কিছু হয় না। এমনই এক নিদর্শন ফের দেখা গেল এই রাজ্যেই।   

অনেকদিন আগেই স্বামীর মৃত্যু হয়েছিল। বাড়ি-সম্পত্তি নিয়ে বারবার অশান্তি করে ছেলে-বউমা। সেই চিৎকার চেঁচামেচি কানে যায় প্রতিবেশীদেরও। এবার এই কনকনে শীতের মধ্যে বৃদ্ধা মা-কে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। প্রতিবেশীরা দেখতে পেয়ে বৃদ্ধাকে আশ্রয় দেন। ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

কোথায় ঘটেছে এমন নির্মম ঘটনা?

এই ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির পুঁটিমারি এলাকার। সেই এলাকার বাসিন্দা বছর ৬৫-র মালতী বর্মণ। বেশ কিছু বছর আগেই মৃ’ত্যু হয়েছে বৃদ্ধার স্বামীর। একটু খাওয়ার জন্য ছেলের কাছেই পড়ে থাকতেন তিনি। কিন্তু বাড়িতে মানসিক অত্যাচার করে মালতীদেবীর ছেলে।

জানা গিয়েছে, এই বৃদ্ধ বয়সেও ওই মহিলা বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করতেন। পরিচারিকার কাজ করা শুরু করেন একটু খাওয়ার জন্য। এদিকে, বাড়ি ও সম্পত্তি জন্য মায়ের উপর অত্যাচার করে ছেলে-বউমা, এমনটাই অভিযোগ।

প্রতিবেশীরা জানান, দিনদিন অত্যাচারের মাত্রা বাড়ছিল। এরই মধ্যে গতকাল, মঙ্গলবার সন্ধ্যেতেও তুমুল অশান্তি হয় ওই বৃদ্ধা ও ছেলে-বৌমার মধ্যে। পারিবারিক বিষয় বলে প্রথমে তেমনটা আমল দেন নি প্রতিবেশীদের কেউই। তবে কিছুক্ষণ পর থেমে যায় চেঁচামেচি। প্রতিবেশীরা ভাবেন হয়ত ঝামেলা মিটেছে। বেশ অনেক রাতে হঠাৎই তারা দেখতে পান, বাড়ির বাইরে কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যে একটা চাদর গায়ে বসে রয়েছেন ওই বৃদ্ধা।

প্রতিবেশীরা কাছে গেলে দেখতে পান, বৃদ্ধার গায়ে আঘাতের চিহ্ন। গুরুতর আহত তিনি। তড়িঘড়ি বৃদ্ধাকে ভর্তি করা হয় ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে। এই বিষয়ে ময়নাগুড়ি থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন ওই বৃদ্ধা।

বৃদ্ধার কথায়, “খেতে চাই বলেই মারে। আমি কাজ করি। তবুও খেতে পাই না”। জানা গিয়েছে, বাড়ি থেকে বের করে মায়ের লেপ-কম্বলও পুড়িয়ে দেয় গুণধর ছেলে। এই ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত ছেলে।

RELATED Articles