“তৃণমূলের থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেটাই আমার শক্তি” শাসকদলের পাঁচালী গাইতে, হরিণঘাটায় নির্বাচনী প্রচারে সৌমিতৃষা কুণ্ডু! এবার অভিনয় ছেড়ে কি রাজনীতিতেই সক্রিয়?

বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নিজেদের এলাকায় পৌঁছে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতিতেই তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে নামছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুণ্ডু। রবিবার বিকেলে নদিয়ার গয়েশপুর এবং পরে হরিণঘাটায় তাঁর সভা করার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি কলকাতা থেকে রওনা দিয়েছেন এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর এই সফর ঘিরে স্থানীয় স্তরে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে তাঁকে কাছ থেকে দেখার জন্য। পরিচিত মুখ হিসেবে তাঁর উপস্থিতি প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

undefined

প্রচার প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন সৌমিতৃষা। তিনি জানান, এর আগেও একাধিকবার দলের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে প্রচার করেছেন। সেই সময় তিনি রাজ চক্রবর্তী এবং পার্থ ভৌমিকের সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে এবার তিনি একাই নদিয়ায় প্রচারে যাচ্ছেন, যা তাঁর কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। দলের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন, তা তাঁর কাছে খুবই মূল্যবান বলে জানান তিনি। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এই দায়িত্বকে তিনি গুরুত্ব দিয়ে নিচ্ছেন এবং যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন বলেও জানান। মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার সুযোগ পেয়ে তিনি খুশি।

সৌমিতৃষার মতে, জনপ্রিয় মুখদের উপস্থিতি মানুষের মধ্যে আলাদা প্রভাব ফেলে। সাধারণ মানুষ তাঁদের কথা মন দিয়ে শোনেন এবং অনেক সময় বিশ্বাসও করেন। সেই জায়গাটাকেই কাজে লাগাতে চান তিনি। নদিয়ার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করবেন বলে জানান। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কেও জানাবেন তিনি। মানুষের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করাও তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। এইভাবে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে চান তিনি। তাঁর মতে, এই যোগাযোগই প্রচারের মূল শক্তি।

আরও পড়ুনঃ ৪০ মিনিটের ধস্তাধস্তি, ক্ষ’তবিক্ষ’ত গো’পনাঙ্গ! সুস্মিতার পর, সায়কের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন স্যান্ডি সাহা! ইনফ্লুয়েন্সারের বি*স্ফোরক অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় চাঞ্চল্য!

প্রচারের সময় তিনি কৃষকদের জন্য নেওয়া নতুন উদ্যোগগুলির কথাও তুলে ধরবেন। এছাড়া স্বাস্থ্য সাথী, যুব সাথী, কন্যাশ্রী এবং লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করবেন। এই প্রকল্পগুলির বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে মানুষের মতামত জানার চেষ্টা করবেন তিনি। মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের কথা শোনা একজন প্রতিনিধির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মনে করেন সৌমিতৃষা। তিনি বলেন, তাঁর কথায় যদি কেউ উপকৃত হন, সেটাই তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি। এই মনোভাব নিয়েই তিনি প্রচারে নামছেন। মানুষের আস্থা অর্জন করাই তাঁর লক্ষ্য।

No photo description available.

প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আগে নানা আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি টিকিট পাননি। তবুও দলের প্রতি তাঁর সমর্থন অটুট রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে আসার কোনও পরিকল্পনা নেই। দর্শক হিসেবে রাজনীতি দেখতে তাঁর ভালো লাগে, কিন্তু নিজে মাঠে নামার ইচ্ছা নেই বলে জানান তিনি। দল এবং নেত্রীর প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। বর্তমানে তাঁর মূল লক্ষ্য মানুষের কাছে পৌঁছনো এবং দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। এইভাবেই তিনি নিজের ভূমিকা পালন করতে চান।

RELATED Articles