‘মমতাদির বিরুদ্ধে চক্রান্ত হলে আমি কলিজা দিয়ে রক্ষা করব’, ভাইফোঁটায় দিদিকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি প্রিয় ‘কাননের’

আজ ছিল ভাইফোঁটা। এদিনটায় অনেকেরই নজর থাকে কালীঘাটের দিকে। বলা ভালো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে। তাঁর দলের সৈনিকরা তাদের প্রিয় ‘দিদি’র হাতে ফোঁটা নেওয়ার জন্য এই দিনটার অপেক্ষায় থাকেন গোটা বছর। অন্য দলের নেতাদেরও দেখা মেলে মাঝেসাঝে। এদিন দিদির কাছ থেকে ভাইফোঁটা নিতে গেলেন ‘দিদি’র প্রিয় কানন অর্থাৎ শোভন চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে গিয়েছিলেন শোভন-বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

ভাইফোঁটার দিন সকাল সকাল মমতার থেকে ফোঁটা নিতে কালীঘাটের দুয়ারে হাজির হন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত বক্সি, অরূপ বিশ্বাস, ডেরেক ও ব্রায়েন, শান্তনু সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এদের মাঝেই দেখা মেলে শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। মাঝে কয়েক বছর রাজনীতিতে এদিক-ওদিক হওয়ায় মমতার বাড়ি যান নি শোভন। তবে গত বছর থেকে ফের ‘ব্যাক টু ট্র্যাক’। যদিও এই মুহূর্তে সক্রিয় রাজনীতিতে নেই শোভন।

এদিন নিজের প্রিয় ‘কানন’কে ফোঁটা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈশাখীকেও চন্দনের টিপ পরান তিনি। উপহার বিনিময়, গল্পগুজব সবই হল রীতি মেনেই। এদিন কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে শোভন বলেন, তিনি মমতাদির পাশ আছেন ও থাকবেনও। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই দিদি ও তাঁর দলকে বারবার আঘাত করা হচ্ছে।

এদিন শোভনের বার্তা, “মমতাদির বিরুদ্ধে চক্রান্ত হলে, আমার মতো বাংলার বহু মানুষ নিজেদের কলিজা দিয়ে সব কিছুকে রক্ষা করবে। পরিকল্পিতভাবে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুর্বল করার চেষ্টা হয়, তাহলে বাংলার প্রভূত ক্ষতি হবে। মমতাদি পশ্চিমবঙ্গের উপর বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে রেখেছেন। এই ছায়া যাতে কেউ কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, তার জন্য আমি সবসময় তৈরি ছিলাম, এখনও আছি”।

ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিষাসরা প্রতি বছরই মমতার বাড়ি যান ভাইফোঁটা নিতে। এই বছর সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হলেন রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন, লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক জাভেদ খান, নির্মল মাজি, সমীর চক্রবর্তী। পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও যেতেন মমতার থেকে ফোঁটা নিতে। কিন্তু গত দু’বছর জেলে থাকায় পার্থর যাওয়া হয়নি দিদির কাছে। আর সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও প্রয়াত হয়েছেন দু’বছর হল।

RELATED Articles