বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপমান করেছেন বাংলার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম।
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেও সমস্যার কোনও রকম সমাধান হয়নি। আর তাই এবার ফিরহাদ হাকিম-এর বিরুদ্ধে নালিশ ঠুকতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়-এর দরবারে শোভন বৈশাখী।
মিল্লি আল আমিন কলেজের দীর্ঘকালীন সমস্যার জট কাটাতে বৈশাখীর শেষ ভরষা হলেন বাংলার রাজ্যপাল। বিগত কয়েক মাস ধরেই এই কলেজে অচলাবস্থা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী। এমনকী সেই সমস্যা আরও জটিল হয়েছে।
একদিকে ছাত্রীরা পরীক্ষা দিতে পারছেন না। অন্যদিকে সময়মতো বেতন পাচ্ছেন না অধ্যাপকরা। যার জেরে কয়েকদিন ধরে কলেজের গেটের বাইরে একদল পড়ুয়া ধর্নায় বসেছেন। কলেজের এমন সংকটের জেরে ইস্তফাও দিয়ে দেন ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তার পর থেকেই তাঁকে অপমানজনক মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বৈশাখী।
কিছুদিন আগেই কলেজের বাইরে ধর্নায় বসা পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি পড়ুয়াদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এমনকী অধ্যক্ষাকে সমূলে উৎপাটিত করার ডাক দেন তিনি। তাঁর সেই মন্তব্যকে অশালীন বলে দাবি করে রাজ্যপালের কাছে এদিন নালিশ ঠুকেছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে একা যাননি তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এদিনও তাঁর সঙ্গে ছিলেন বন্ধু শোভন চট্টোপাধ্যায়। কলেজের সমস্যা নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে আলোচনা হয় তাঁর।
শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার ৪০–৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবন। ৩০ বছরের বেশি সময় আমি জনপ্রতিনিধি হিসাবে কাজ করছি। এই মন্তব্য একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি তথা জনপ্রতিনিধি কী করে করতে পারেন আমার জানা নেই। এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞাহীন মন্তব্য আমি ব্যথিত। ফিরহাদের মিল্লি আল আমিন কলেজের দায়িত্ব পাওয়ার পেছনে আমার অবদান ছিল। ওঁর আত্মসমালোচনা করা উচিত।’
তবে মুখ চুপ করে থাকেননি বৈশাখী। ফিরহাদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন ‘আমার উপাধি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই হয়তো এমন কথা বলার সাহস হল। খাতুন হলে বলতে পারতেন? তখন তো ভোটব্যাঙ্কের চিন্তা ঘুরত মাথায়। ওঁর শুভবু্দ্ধি উদয় হোক। এই আশা রাখি।’
পাল্টা জবাব দিয়েছেন কলকাতা মহানাগরিকও। তাঁর কথায়, ‘যে যা বলছে বলুক। আমি আমার কাজ করে যাব। দু’দিন আগে ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে অংশ নিয়েছি। তবু রাস্তায় নেমে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তাই কে কী বলল, তাতে কিছু আসে যায় না। মানুষই সব বিচার করবেন।’





