প্রায় আট বছর পর বহুল প্রতীক্ষিত স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। বাংলার বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষা দিতে ভিড় জমিয়েছেন দেশের নানা প্রান্তের পরীক্ষার্থীরা। সকাল থেকে স্টেশন, পরীক্ষাকেন্দ্র এবং আশপাশে ভিড় দেখে বোঝা যাচ্ছিল এই পরীক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এমন পরিবেশেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার শিকার হলেন উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা এক যুবক।
রামপুর গোপীগঞ্জ সন্ত রবিদাস নগরের বাসিন্দা আনন্দ কুমার বিন্দ এই পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলেন বাংলায়। হাওড়া স্টেশনে নামার পর বিভূতি এক্সপ্রেস থেকে নেমে তিনি লোকাল ট্রেনে হুগলির দিকে রওনা দেন। অভিযোগ, সেখানেই হুগলি স্টেশনে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় এক অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে। প্রথমে বন্ধুভাবাপন্ন ভঙ্গিতে কথা বলে ওই ব্যক্তি তাঁর আস্থা অর্জন করে। আনন্দকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে গিয়ে খাওয়াদাওয়া করায়, এমনকি গঙ্গায় স্নানও করাতে নিয়ে যায়।
বিশ্বাস বাড়তে থাকায় আনন্দ ভেবেছিলেন তিনি সত্যিই একজন সহৃদয় মানুষ পেয়েছেন। কিন্তু রাত নামতেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পরের দিন সকালে আনন্দ আর কিছুই মনে করতে পারেননি। জ্ঞান ফেরে একেবারে হাসপাতালে শয্যায়। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা সবকিছুই উধাও হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, অচেনা ব্যক্তিই তাঁকে অজান্তে কোনো মাদক জাতীয় কিছু খাইয়ে অচৈতন্য করে সর্বস্ব লুট করেছে।
চুঁচুড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনন্দের মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দেয়। তবুও রবিবার পরীক্ষা দিতে তিনি হুগলি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। ইতিহাস বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছে ছিল তাঁর। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষার দিন পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে বসে থাকতে বাধ্য হন তিনি। একদিকে দীর্ঘ প্রস্তুতির পর পরীক্ষা দিতে না পারার কষ্ট, অন্যদিকে প্রতারণার আঘাত সব মিলিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আনন্দ।
আরও পড়ুনঃ Ra*pe case : জন্মদিনের খুশি মুহূর্তেই দুঃস্বপ্ন! ‘বন্ধুরা বিশ্বাস ভেঙে মাদক খাইয়ে ধর্ষ*ণ করেছে’-অভিযোগ তরুণীর!
এই ঘটনার পর অন্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই বাইরে থেকে বাংলায় এসে পরীক্ষা দিচ্ছেন। ফলে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে যে একইভাবে যদি প্রতারণার ফাঁদে পড়তে হয়। যদিও প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, বাইরে থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের জন্য কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবুও উত্তরপ্রদেশের ওই পরীক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা যে সকলকে নাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।





