যারা ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর, যাদের হাতে রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের সঠিক পথ দেখানোর দায়িত্ব, সেই শিক্ষকরাই জড়িত দুর্নীতির সঙ্গে। একাধিক ভুয়ো নিয়োগ যে হয়েছে, তা কার্যত স্বীকার করে নিল এসএসসি। কেউ চাকরি পেয়েছেন র্যাঙ্ক জাম্প করে, কেউ পেয়েছেন ওএমআর শিট বিকৃত করে, তো কেউ আবার চাকরি পেয়েছেন সুপারিশপত্র ছাড়াই। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গঠন করা হয়েছিল একটি বেঞ্চ।
সম্প্রতি এই বেঞ্চের কাছে এসএসসি নিয়োগ মামলায় নয়া রিপোর্ট পেশ করেছে। সেখানেই কমিশন স্বীকার করে নিয়েছে যে নিয়োগে বেআইনি হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, এসএসসির তরফে আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় ওএমআর শিট কেলেঙ্কারি থেকে ব়্যাঙ্ক জাম্প করে কতজন চাকরি পেয়েছেন সেই তালিকা দেওয়া হয়েছে।
র্যাঙ্ক জাম্প করে চাকরি
র্যাঙ্ক জাম্প করে ব্যাপক হারে দুর্নীতি হয়েছে। তালিকার নীচে নাম থাকা চাকরি প্রার্থীদের নাম তালিকার ওপরের দিকে নিয়ে গিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এসএসসি-র তথ্য অনুযায়ী, নবম দশমে র্যাঙ্ক জাম্প করে ১৮৩ জন চাকরি পেয়েছেন। এদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১২২ জনের চাকরি গিয়েছে। আর বাকি ৬১ জন এখনও বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। একাদশ-দ্বাদশে র্যাঙ্ক জাম্প করে ৩৯ জনের চাকরি পেয়েছে। তারা সকলেই এখনও চাকরি করছে।
ওএমআর শিট বিকৃত করে চাকরি
এসএসসি-র পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী, নবম দশমে ওএমআর শিট বিকৃত করে ৯৫২ জন চাকরি পেয়েছেন। আর একাদশ দ্বাদশ শ্রেণিতে এভাবে চাকরি পেয়েছেন ৯০৭ জন। এদের মধ্যে এসএসসি ৭৭১ জনকে চাকরির সুপারিশপত্র দিয়েছে। গ্রুপ সি নিয়োগেও হয়েছে বেনিয়ম। ৩৪৮০ জনের চাকরি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। গ্রুপ ডি-তেও ২৮২৩ জনের বিরুদ্ধে ওএমআর শিট বিকৃত করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সুপারিশপত্র ছাড়াই চাকরি
আবার অনেকেই চাকরি পেয়েছেন কোনও সুপারিশপত্র ছাড়াই। প্রার্থী বাছাই হয়ে গেলে এসএসসি সুপারিশপত্র সেয়। সেই অনুযায়ী চাকরিতে নিয়োগ করে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। কিন্তু আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে এসএসসির সুপারিশপত্র ছাড়াই গ্রুপ সি-তে ৫৭ জন চাকরি পেয়েছেন। গ্রুপ ডি-তে এই সংখ্যাটা ১৭০ জন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বেআইনিভাবে চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছে ৮ হাজারেরও বেশি জনকে।





