বর্তমানে রাজ্য রাজ্যপাল সম্পর্ক তিক্ত’র থেকেও বেশি কিছু থাকলে তাই বলা চলে। গতকাল অর্থাৎ সােমবার রাজভবনে বসে এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকের আয়ােজন করে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় রাজ্য প্রশাসন, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশের ডিজির বিরুদ্ধে বেশ কিছু চাঁচা ছোলা বক্তব্য রেখেছিলেন। যেখানে তিনি রাজ্যের পুলিশি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে, বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলন, রাজ্যের গণ ব্যবস্থা সমস্ত কিছু নিয়েই নিজের অভিযােগ জানিয়েছিলেন। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেছিলেন, রাজ্য পুলিশের ডিজি এত দায়িত্বজ্ঞানহীন হতে পারেন কী করে?
একুশের বিধানসভা ভোটের আগে নবান্ন এবং রাজভবনের তরজায় ফিরে আসে সেই পুরাতন শব্দবন্ধ। … হার্মাদ। সোমবার আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে ফের সেই শব্দবন্ধকেই নিজের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন রাজ্যপাল।
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজ্যপাল অভিযােগ করেছিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আইন মান্য করেন না। মুখ্যমন্ত্রী কোনও প্রশ্নের জবাব দেন না। বিশ্ববাণিজ্য, রাজ্যের গণ বণ্টন ব্যবস্থা যা কিছু নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয় মুখ্যমন্ত্রী নিরুত্তর থাকেন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়েও অভিযােগ করেছিলেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে ওঁর দায়িত্ব মনে করাতে চাই। রাজ্যপালের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে। রাজ্যপালের দায়িত্ব সংবিধানে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে। আমি কারও রাবার স্ট্যাম্প নই।”
তবে রাজ্যপালের এই তীব্র আক্রমণের পর চুপ করে থাকেনি শাসক শিবিরও। রাজভবন থেকে রাজ্যপালের এই মন্তব্যের পর গতকাল সােমবার রাজ্যের শাসক দলের একাধিক নেতৃত্বকে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা গেল। রাজ্যপালকেই প্রশাসনিক জ্ঞান আদায় করতে হবে বলে মত বেশিরভাগ তৃণমূল নেতারই।
গতকাল দমদমের সাংসদ ও তৃণমূল দলের মুখপাত্র সৌগত রায় লেক গার্ডেন্সে নিজের বাড়িতে বসেই রাজ্যপাল সম্পর্কে একাধিক বিতর্কিত বক্তব্য রাখলেন। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তার ক্ষুরধার মন্তব্য, “এমন বাচাল রাজ্যপাল আগে কখনও দেখিনি। রাজভবন থেকে বাংলার বদনাম করছেন। সংবিধান মানছেন না।” রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তিনি আরও বলেন যে, রাজ্যপাল একজন মনােনীত শাসক যিনি কেন্দ্রীয় সরকারের হাত শক্ত করতে সচেষ্ট হয়েছেন। তাঁর দাবি, বাংলার সমাজে রাজ্যপালের কোনও প্রভাব নেই। অন্যদিকে রাজ্যের ডিজি বীরেন্দ্র সম্পর্কে রাজ্যপাল যে অভিযােগ জানিয়েছেন, তা তিনি কখনই সমর্থন করেন না বলে জানালেন। পরিবর্তে, রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তিনি অভিযােগ করেন যে, রাজ্যপাল রাজভবনে বসে সংবিধান বিরােধী কাজ করছেন।





