দিদিমণি নেই, তাই দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়াদের ক্লাস করাচ্ছে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী, এ কী দশা সরকারি স্কুলে?

সরকারি স্কুলগুলি থেকে অহরহ নানান অভিযোগ উঠে আসে। কখনও মিড ডে মিলের খাবারে পোকামাকড় পরা, কখনও স্কুলের পাঁচিল বা সিলিং ভেঙে পরা, কখনও আবার ছোটো ছোটো পড়ুয়াদের দিয়ে বাথরুম পরিষ্কার করানো, এমন নানান ঘটনা সামনে আসে প্রতিনিয়ত। এবার সরকারি স্কুলে যে ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়াদের ক্লাস নিচ্ছে ওই স্কুলেরই চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?  

এই ঘটনাটি ঘটেছে গোঘাট ২ নম্বর বিডিও অফিস থেকে দু’কিলোমিটার দূরে এক এলাকায়। সেখানেই রয়েছে মান্দারণ দাসপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্র। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে পড়ুয়ার সংখ্যা ১০৫ জন কিন্তু শিক্ষিকা মাত্র ১ জন। এর জেরে পড়াশোনা হচ্ছে না স্কুলে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রয়েছে একজন কিন্তু তিনি বাইরের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। মাসে একদিন স্কুলে আসেন তিনি। কোনওভাবে টেনেটুনে চলছে ওই স্কুল। স্কুলের একমাত্র শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলের মিড ডে মিলের খাবারে সামান্য পুষ্টিগুণও নেই। কোনও কোনও মাসে পড়ুয়ারা ডিম পায় তো কোনও মাসে জোটেই না। আর মাংস? সে তো কল্পনারও অতীত!

একজন শিক্ষিকাই কোনওরকমে পড়ান ছাত্রছাত্রীদের। তাঁকে আবার মিড ডে মিলের আয়োজনও দেখতে হয়। ফলে পড়াশোনার দিকে সময়ও দিতে পারেন না তিনি ভালোভাবে। বেশিরভাগ দিনেই তাই চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা নিচু ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের পড়ায়।

চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রী জানায়, “আমাদের স্কুলে বেশি দিদিমণি নেই তাই আমি ক্লাস টু-এর ক্লাস করাচ্ছি। ওদের বাংলা পড়াচ্ছি”।

ওই সহকারি শিক্ষিকা শ্যামলী রায় বলেন, “আমরা দুজন স্টাফ। এরপর রান্নার ব্যবস্থা করতে হয়। আমি একা। ক্লাস নিতে-নিতে যে দিন অসুবিধা হয় তখন চতুর্থ শ্রেণির যে পড়ুয়া তাঁকে বলি একটু নিচু ক্লাসের পড়া ধরতে”।

এই বিষয়ে গোঘাট ২ নম্বর ব্লকের জয়েন্ট বিডিও কুন্তল কুমার মণ্ডল বলেন যে এই বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে প্রধান শিক্ষিকাকে মিড ডে মিল সহ অন্যান্য কাজে বাইরে যেতে হয়। তিনি বিষয়টি জানেন।

RELATED Articles