পশ্চিমবঙ্গের (west bengal)অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) বরাবরই ছাত্র রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে। স্বাধীন মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদী আন্দোলনের ঐতিহ্য বহন করা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে বহুবার বিক্ষোভ-অবরোধের সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী। তবে এবার সেখানে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হচ্ছিলেন, তখনই তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায় ছাত্র সংগঠনের একাংশ। যা পরে চরম উত্তেজনায় রূপ নেয় এবং পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
বাম ছাত্র সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ ভোট পুনরায় চালু করতে হবে। এই দাবিকে কেন্দ্র করেই সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছিল। শিক্ষামন্ত্রীর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমনকে ঘিরে ছাত্রদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ছিল। সেই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে শনিবার, যখন ওয়েবকুপার বৈঠকে যোগ দিতে শিক্ষামন্ত্রী ক্যাম্পাসে আসেন। ছাত্র সংগঠনের একাংশ তাঁর উপস্থিতির বিরোধিতা করে, যা ধীরে ধীরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
সন্ধ্যার দিকে ব্রাত্য বসু বৈঠক সেরে বের হওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্ররা তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ‘চোর-চোর’ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। এরপর কয়েকজন পড়ুয়া মন্ত্রীর গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে দেয়। শিক্ষামন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, ইট ছোড়া এবং গাড়ি ভাঙচুর। ব্রাত্য বসুর সঙ্গে থাকা দু’টি পাইলট কারেও হামলা চালানো হয়। শিক্ষামন্ত্রীর অভিযোগ, গাড়িতে ইট ছোড়ার কারণে তিনি আহত হয়েছেন এবং তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘তুই আমার হিরো’ আগমনে বিপদে ‘আনন্দী’? এবার কি তাহলে ‘আনন্দী’ শেষের পথে?
এই ঘটনায় শুধু শিক্ষামন্ত্রী নন, আক্রান্ত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরাও। ওয়েবকুপার সদস্য অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্রকে লাঠি হাতে তাড়া করেন বিক্ষোভকারীরা। ধস্তাধস্তির মধ্যে এক ছাত্র গুরুতর আহত হন, যার মাথা ফেটে যায়। এমনকি এক অধ্যাপিকার শাড়ি ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে থাকা তৃণমূল প্রভাবিত কর্মচারী সংগঠনের অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর পক্ষ থেকে যাদবপুর ৮বি মোড়ে রাস্তা অবরোধ করা হয়।
এদিনের ঘটনার পর ব্রাত্য বসু বলেন, “এই গুন্ডামি সহ্য করা হবে না। ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই, কিন্তু এভাবে হামলা বরদাস্ত করা যাবে না।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশে হলে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিত। কিন্তু আমি চাইনি শিক্ষাঙ্গনে পুলিশ ঢুকুক।” শিক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। যাদবপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ও রাজনীতির সংঘাত যে আরও বাড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।





