শালবনিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবজোয়ার কর্মসূচি চলাকালীন কুড়মিদের বিক্ষোভের জেরে ঘটল ধুন্ধুমার কাণ্ড। এই ঘটনায় খু’নের চেষ্টা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ একাধিক ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার সন্ধেয় অভিষেকের সভায় যোগ দিতে গোপীবল্লভপুরের দিকে যাচ্ছিলেন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। সেই সময় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তুলে একদল কুড়মি বিক্ষোভকারী তাঁর উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মন্ত্রীর গাড়িতে ভাঙচুর হওয়ায় সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে পিডিপিপি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। একইসঙ্গে খুনের চেষ্টার অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে, যা জামিন অযোগ্য। অন্যদিকে মন্ত্রী বীরবাহার তরফ থেকেও , অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি বীরবাহার গাড়ির চালককেও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন ওই ঘটনায় আহত হয়েছে বলে অভিযোগ। ঝাড়গ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের কাছে ওই ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে নবান্নের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন ইতিমধ্যেই। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ ঝাড়গ্রাম থানায় মামলা দায়ের করে। আজ, শনিবার মোট চারজনকে পুলিশ আটক করেছে ।
এই হামলার ঘটনায় বিজেপিকে নিশানা করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কুড়মি সমাজের পক্ষ থেকে বিবৃতি দাবী করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “আপনারা যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিবৃতি না দেন, তাহলে ধরে নেব এই ঘটনা কুড়মি সমাজ ঘটিয়েছে। আপনি আন্দোলন করছেন পাটকেল মেরে! তাহলে সিপিএমের হার্মাদ আর বিজেপির জহ্লাদদের সঙ্গে আপনাদের পার্থক্য কোথায়? আমি বিশ্বাস করি এই ঘটনার মধ্যে কুড়মি সমাজ নেই। তাদের মুখোশধারী কোনও রাজনৈতিক দল রয়েছে”।
বিজেপির উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “এটা কি জহ্লাদদের উল্লাসমঞ্চ? আদিবাসী কুড়মি সমাজ বলে যদি তাঁরা নিজেদের দাবি করেন। তবে তাঁদের মুখে জয় শ্রীরামের স্লোগান কেন? যদি কেউ ভাবে আদিবাসী কুড়মিদের পতাকা নিয়ে বিজেপির ক্ষোভ তৃণমূলের বিরুদ্ধে উগরে দেব, আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভয় দেখাব, তাদের বলব আমি ময়দানে আছি। কোন নেতার মদত রয়েছে সেই তথ্য আমি নিয়েছি। একজনকেও রেয়াত করা হবে না। আগামিদিনে এই বিজেপির আবর্জনাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করার দায়িত্ব আমার”।
একইসঙ্গে কুড়মিদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা তফশিলি উপজাতি মর্যাদা চাইছেন, আর একজন তফশিলি উপজাতির মহিলা মন্ত্রীর উপরই হামলা করছেন”। এই ঘটনার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ সুপারের কাছেও প্রশাসনিক স্তরে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন।
এই হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এদিন রাতে টুইট করে লেখেন, “নবজোয়ার যাত্রাকে ভয় পেয়ে বিঘ্ন ঘটানোর নানা অপচেষ্টা। বিজেপির পরিকল্পনায় অশান্তির চেষ্টা। বীরবাহার মতো জঙ্গলকন্যার বিরুদ্ধেও চক্রান্ত। তৃণমূলকর্মীরা সহিষ্ণুতা, সংযম, শৃঙ্খলা দেখাচ্ছেন”।






