জনগণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু হয়নি কেন? বাংলাকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের!

ফের সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ভৎসনার মুখে পড়ল বাংলা। এই অতিমারীর (Pandemic) পরিস্থিতিতে আমজনতার জন্য কেন্দ্রের চালু করা স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ (Ayushman Bharat) কেন‌ও চালু করেনি পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)? প্রশ্ন তুলে বাংলাকে নোটিশ (notice) পাঠালো দেশের সর্বোচ্চ আদালত। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আর‌ও তিন রাজ্যকে নোটিশ ধরিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট । পশ্চিমবঙ্গ সহ দিল্লি (Delhi), তেলেঙ্গানা (Telangana) ও ওড়িশার (odisha) কাছেও কারণ জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃতত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ। এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানি রাখা হয়েছে সপ্তাহ দু’য়েক পর।

কি এই আয়ুষ্মান ভারত যোজনা?

জনস্বাস্থ্য পরিষেবায় কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের নিম্নবিত্ত ৫০ কোটি মানুষের জন্য বার্ষিক ৬৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। এক‌ইসঙ্গে এই প্রকল্পের আওতায় সাম্প্রতিক মহামারী সংকট অর্থাৎ করোনা সংক্রান্ত পরীক্ষা থেকে চিকিৎসা – সব পরিষেবাই পাওয়া যাবে। কিন্তু বেশ কয়েকটি রাজ্যে এই প্রকল্প চালু হয়নি। যার মধ্যে অন্যতম মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) প্রশাসনের দাবি, এখানকার ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর তুলনায় অনেক বেশি কার্যকরী। এছাড়া এ রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পান আমজনতা – উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত, সকলেই। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এ রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ চালু করার কোনও যৌক্তিকতা নেই। বারবারই তিনি এই দাবি করেছেন।

একইভাবে কেন্দ্রের চালু করা ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ নিজেদের রাজ্যে চালু করেনি তেলেঙ্গানার কেসিআর প্রশাসন, দিল্লির কেজরিওয়াল প্রশাসন এবং ওড়িশার নবীন পট্টনায়েক প্রশাসন। প্রসঙ্গত, এই চার রাজ্যই বিরোধীদের দখলে। এ নিয়ে পেরালা শেখর রাও (Perala shekhar Rao) নামে জনৈক ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। শুনানিতে আবেদনকারীর আইনজীবী হিতেন্দ্র রথ অভিযোগ করে বলেন, ”এই প্রকল্পের সুবিধা না থাকায় এবং সরকারি হাসপাতালগুলোয় উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে মধ্যবিত্ত মানুষজন কোভিড চিকিৎসার জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে প্রচুর ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই আবেদনকারী চান, আয়ুষ্মান ভারত এমনভাবে চালু হোক, যাতে প্রয়োজনে মানুষ এর সুবিধা নিতে পারেন।” আর এরপরই প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের (SA Bobde) নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গ-সহ এই চার রাজ্যকে নোটিশ পাঠায়।

RELATED Articles

Leave a Comment