‘আপনার লজ্জা করে না…’, নিয়োগ দুর্নীতিতে জামিন মামলায় পার্থকে তুমুল ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজন জামিন পেয়েছেন। কিন্তু বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও জামিন কিছুতেই হচ্ছে না রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। সেই কারণে এবার সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে প্রবল ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হলে পার্থকে।

এর আগে পার্থর আইনজীবী একাধিকবার নিজের মক্কেলের জামিনের আবেদন করতে গিয়ে এই দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অন্যান্যদের প্রসঙ্গ টেনেছেন। আজ, বুধবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের মামলা ছিল সুপ্রিম কোর্টে। এদিন ফের তাঁর আইনজীবী নিয়োগ দুর্নীতিতে জামিন পাওয়া মানিক ভট্টাচার্য, অর্পিতা মুখোপাধ্যায়দের নাম উল্লেখ করে নিজের মক্কেলের জামিনের আবেদন করেন। আর সেখানেই তিনি বিপদে ফেলে দেন নিজের মক্কেলকেই।

এদিন এই মামলার শুনানিতে ছিলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া। তাদের পর্যবেক্ষণ, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অন্যান্য অভিযুক্তদের কোনও জড়ানো ঠিক নয়। তাদের অবস্থান আলাদা। যে সময় নিয়োগ দুর্নীতি ঘটেছে, সেই সময় পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, বাকিরা তা ছিলেন না। সেই কারণে বাকিদের সঙ্গে পার্থর তুলনা হয়না বলেই দাবী সুপ্রিম কোর্টের। এমনকি বিচারপতি এও বলেন, এই ঘটনার জন্য পার্থর লজ্জা হওয়া উচিত।

এদিন আদালতে ইডি জানায়, এই মামলায় ধৃতরা জানিয়েছেন যে তারা পার্থর সঙ্গে কাজ করতেন। সেই কারণে সকলের সঙ্গে পার্থর অবস্থান কখনই এক হতে পারে না। ইডির আইনজীবী এদিন আদালতে জানান, এই মামলায় অভিযুক্ত অর্পিতা মুখোপাধ্যায় তাদের বলেছেন, তিনি নিজের ও তাঁর মায়ের কথা ভেবে প্রথমে কিছু বলতে পারেন নি। তাঁর ফ্ল্যাট থেকে যে ৫০ কোটি টাকা ও প্রচুর পরিমাণ সোনার গয়না উদ্ধার হয়েছে, তা নিয়ে তিনি কিছু জানতেন না। এই বিষয়ে যা বলার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই বলতে পারবেন বলে ইডিকে জানিয়েছেন অর্পিতা।  

আরও পড়ুনঃ কলকাতায় রাস্তার ফুটপাত থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন হেনস্থা ৭ মাসের ফুটফুটে শিশুকে, একরত্তির যৌনাঙ্গে রক্তক্ষরণ 

এদিন সুপ্রিম কোর্ট এও প্রশ্ন তোলে যে সত্যিই নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত হওয়ার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায় যদি জামিন পেয়ে যান, তাহলে সমাজে কী বার্তা পৌঁছবে। এও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে যে পার্থ হয়ত ডামি রেখে দুর্নীতি করেছেন। কারণ তিনি নিজের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ কখনই দেবেন না। এদিন নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় পার্থকে বেশ কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় শীর্ষ আদালতের।

RELATED Articles