বাম দল মানেই তীব্র অনুশাসন। চটুলতার কোনও স্থান নেই। কিন্তু তৃণমূল-বিজেপির সঙ্গে পাল্লা দিতে নিজেদের চিরকালীন প্রথা ভাঙছে বাম শিবির।
এখনও রাজ্যের বাম দলে প্রবীনদের দাপট সর্বাধিক। গুটিকয়েক তরুণ নেতার মুখ দেখা গেলেও বামেদের নেতৃত্বে প্রথম সারিতে নেই তারা। রাজ্যের প্রবীণ সিপিএম নেতারা তরুণদের জায়গা ছাড়ছে না এই অভিযোগ বাম নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও বার বার উঠেছে৷
কিন্তু ৩৪ বছরের অনুশাসন এখন মেনে চললে তৃণমূল, বিজেপি-র সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আর তাই নিজেদের প্রচার কৌশলও যথাসম্ভব আধুনিক করতে প্রাণপাত করছে বাম ছাত্র-যুবরা৷ আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারি বাম-কংগ্রেসের ব্রিগেডে সমাবেশের প্রচারে তাই টুম্পা সোনা গানের ব্যবহারেও পিছপা নন বাম নেতৃত্ব৷
‘টুম্পা সোনা’ গ্রাসরুট থেকে এলিট সব ক্লাসেরই অনুষ্ঠানে বেজেছে। তবে এই গানের ভাষা বেশ অশ্লীল। সম্প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গান বাজায় রীতিমতো বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
আরও পড়ুন – বিজেপি ক্ষমতায় এলে কে হবেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? জানিয়ে দিলেন অমিত শাহ
আর এবার সেই গানই বামেদের ব্রিগেডের প্রচার দেখে চমকে গিয়েছেন অনেকেই৷ কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল সিপিএমের মতো কড়া অনুশাসন মেনে চলা দলে এই গানের ব্যবহার প্রবীণ বা সিনিয়র নেতারা মেনে নেবেন কি না৷ সেই সম্ভাবনা দূর করে দিয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র নিজের ফেসবুক পেজে বামেদের ব্রিগেডের সমর্থনে তৈরি টুম্পা সোনা গানের প্যারোডি শেয়ার করলেন৷ বুঝিয়ে দিলেন, টুম্পা সোনা গানের এই প্যারোডিতে পূর্ণ সমর্থন রয়েছে কড়া সিপিএম নেতৃত্বেরও৷ আরও স্পষ্ট করে বললে, সময়ের দাবি মেনেই দলের কড়া অনুশাসন বজায় রেখে প্রচার কৌশল নিয়ে নিজেদের মনোভাব বদলে ফেলছেন সিপিএম নেতারাও৷
সূর্যকান্ত মিশ্র নিজে এই ভিডিও শেয়ার করায় ফেসবুকেও সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়াই দেখা গিয়েছে৷ অনেকেই মনে করছেন, সময়ের দাবি মেনে সহজ ভাষায় মানুষের দাবি তুলে ধরার জন্য এমন প্যারোডি গান তৈরি করলে কোনও ক্ষতি নেই৷ আবার কারও কারও মতে, ‘টুম্পা সোনার’ মতো গানকে প্রচারের হাতিয়ার করা বামেদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না৷





