একেই করোনার জেরে রাজ্যে বিধ্বস্ত অবস্থা, এর উপর তার নতুন দোসর ঘূর্ণিঝড় যশ। যদিও ওড়িশার ধামড়াতে আছড়ে পড়েছে যশ, কিন্তু তবুও ভরা কোটালের কারণে বাংলাতেইও এর যথেষ্ট প্রভাব পড়েছে।
বাংলার দুই ২৪ পরগণা ও দুই মেদিনীপুরের মানুষ যশের জেরে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। লক্ষ লক্ষ টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। একাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। রাজ্য সরকার যদিও ইতিমধ্যেই দুয়ারে ত্রাণ প্রকল্প শুরু করেছেন। তবে, বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর দাবী, ফনি বা আমফানের মতো মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে না রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুন- প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক বয়কট মমতার পূর্বপরিকল্পিত! টুইটারে আক্রমণাত্মক রাজ্যপাল ধনখড়
ইতিমধ্যেই, পূর্ব মেদিনীপুরে যশে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ত্রাণ দিতে খেজুরিতে পৌঁছন শুভেন্দু। তিনি আগেই জানান যে, এখন তিনি আর রাজ্যের মন্ত্রী নন, তাই আগের মতো ততটা সাহায্য হয়ত করতে পারবেন না। কিন্তু নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন তিনি।
তাই-ই হল। এদিন খেজুরিতে মানুষের হাতে ত্রিপল, ত্রাণ, শুকনো খাবার তুলে দিলেন শুভেন্দু। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারকেও ফের একবার চাঁচাছোলা ভাষায় শানালেন তিনি। তাঁর দাবী, ফনি বা আমফানের সময় রাজ্যে সক্রার যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল, এবারে সেভাবে নেই সরকার।
তিনি এও জানান যে যশের আগেই কেন্দ্র রাজ্য সরকারকে অগ্রিম ৪০০ কোটি টাকা দেয়। ঝড়ের পরে পরিস্থিতি ঘুরে দেখে ওড়িশা সহ বাংলাকে হাজারভ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুভেন্দুর আশঙ্কা, এই টাকাও আমফানের মতোই মাঝপথে উড়ে যাবে।
এদিন বারবার মানুষকে সতর্ক করে শুভেন্দু বলেন, “পঞ্চায়েত এবং বিডিও অফিস গুলিতে ড্রপবক্স খোলা হয়েছে। আবেদন করে রিসিভ কপি অবশ্যই নিজের কাছে রাখবেন। নইলে হয়তো বলবে আবেদন করেনি”। যশ পর্যবেক্ষণের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ না দেওয়ার প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “উনি যদি ২ কোটি ৮৭ লাখ মানুষের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে থাকেন। আমিও ২ কোটি ২৮ লাখ মানুষের বিরোধী দলনেতা”।
বলে রাখি, এর আগেও আমফানের সময়ের দুর্নীতি নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন শুভেন্দু। এমনকি, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও জানান যাতে টাকা মানুষের হাতে দেওয়া হয়, নাহলে দুর্নীতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুভেন্দুর বক্তব্য ছিল, কেন্দ্রের দেওয়া ৪০০ কোটি টাকা নয়ছয় করেছিল তৃণমূল। ফের সেই একই প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য সরকারকে একহাত নিলেন শুভেন্দু।





