রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন পর্বের শুরুর দিন থেকেই অশান্তির ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। নানান প্রান্ত থেকে উঠে আসছে নানান হিংসার ঘটনা। প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে। উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য। এবার এই নিয়ে সরব হয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে দুষলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
মনোনয়ন পর্বে কেউ কোথাও সমস্যায় পড়লে রাজভবনের তরফে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। রাজ্যপালের ভাষায় যা পিস রুম। তবে শুভেন্দু অধিকারীর দাবী, রাজীব সিনহাকে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত রাজ্যপাল নিয়েছেন, তা থেকেই সমস্ত সমস্যার শুরু। তাঁর কথায়, রাজ্যপাল চাইলেই অনেক আগেই এই সমস্যার সমাধান করা যেত।
রাজ্যের প্রস্তাবিত নামের তালিকার উপর ভিত্তি করেই রাজ্যপাল রাজ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করেন। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সৌরভ দাসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর, রাজ্যের তরফে প্রথমে রাজীব সিনহার নাম পাঠানো হয় রাজভবনে। কেন শুধুমাত্র একজনের নামই প্রস্তাব করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
সেই কারণে পরবর্তীতে নবান্ন থেকে রাজীব সিনহা-সহ তিনজনের নামের তালিকা পাঠানো হয় রাজভবনে। প্যানেলে বাকি দু’জন ছিলেন এম ভি রাও বা অজিত বর্ধন। সেই তিনজনের প্যানেল থেকে শেষ পর্যন্ত রাজীব সিনহাকেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিযুক্ত করেছিলেন রাজ্যপাল। আর সেখানেই আপত্তি তোলেন শুভেন্দু।
বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করার দরকার ছিল রাজ্যপালের। কেন্দ্রীয় সরকার ও আইবি-র থেকে রিপোর্ট নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “রাজীব সিনহাকে নিয়োগ করার ফলেই আজ পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যুর মিছিল চলছে”। তবে গত কয়েকদিনে রাজ্যপাল যে উদ্যোগ নিয়েছেন, যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপি নেতা।
বলে রাখি, রাজীব সিনহাকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। এর আগেও এই নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। রাজ্যপালের এইন সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেছিলেন, তিনি চাইলেই রাজীব সিনহাকে আটকাতে পারতেন। কিন্তু রাজ্যপালের যে কাজ করার দরকার ছিল, তা তিনি করেন নি। শুভেন্দু এমনও মনে করেন যে রাজীব সিনহা বাদে প্যানেলে বাকি যে দু’জনের নাম ছিল, তারা রাজীব সিনহার মতো হতেন না।






