গত মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজের ডাকে ছিল নবান্ন অভিযান। আর জি করের ঘটনার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবীতে এই অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এই অভিযান যেন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আন্দোলনকারী-পুলিশ উভয়ই আহত হয়েছে এই অভিযানের জেরে। এবার আর নবান্ন অভিযান নয়, একইসঙ্গে তিন জায়গায় অভিযানের ডাক দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
গত মঙ্গলবারের নবান্ন অভিযানে তৈরি হয় তুলকালাম পরিস্থিতির। মিছিলের উপর জলকামান ছোঁড়ে পুলিশ। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল। করা হয় লাঠিচার্জও। যদিও এর পাল্টা জবাব দেন আন্দোলনকারীরাও। তারাও ইটবৃষ্টি করে পুলিশের উপর। অনেকসময় পুলিশকে তাড়া করতেও দেখা যায় আন্দোলনকারীদের। এর ফলে আহত হয় উভয়পক্ষই।
তবে এবার শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, একই সঙ্গে তিন জায়গায় করা হবে অভিযান। গতকাল, বুধবার নন্দীগ্রামে এক কর্মসূচি থেকে শুভেন্দু বলেন, “অত্যাচারীরা শেষ কথা বলে না। তার প্রমাণ ব্রিটিশরা এদেশ ছেড়ে চলে গিয়েছে। এ রাজ্যে যা চলছে মানুষ তার জবাব দিচ্ছে। এরপর একসাথে নবান্ন, কালীঘাট ও লালবাজার তিন জায়গায় অভিযান হবে। অরাজনৈতিক ভাবে। জাতীয় পতাকা নিয়ে। পুলিশ দিয়ে এই আন্দোলন দমানো যাবে না”।
তবে এই অভিযান কবে হবে, বিজেপির ব্যানারেই এই অভিযান হবে কী না, বা কারা এই অভিযানে নেতৃত্ব দেবেন, তা নিয়ে খোলসা করে কিছু বলেন নি বিরোধী দলনেতা। তাঁর কথায়, “কারা করবে, কবে করবে সব জেনে যাবেন। দফা এক, দাবি এক, মমতার পদত্যাগ। আমার বোনের রক্ত, হবে নাকো ব্যর্থ। জনগণ জেগেছে। সরকারের পালানোর সময় এসেছে”।
শুভেন্দুর কথায়, রাজ্য সরকার পুলিশ নির্ভর হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “এই সব করে আটকানো যাবে না। নবান্ন অভিযানে পাঁচিল করেও আটকানো যায়নি। দক্ষিণ হাওড়ার মানুষ চ্যাটার্জী হাট ধরে এসে নবান্নের ভিতর পর্যন্ত ঢুকেছে। নড়িয়েছে সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে। বারোটা কুড়ি থেকে সাড়ে তিনটে পর্যন্ত এখানে। পাঁচটা পর্যন্ত বাবুঘাটে। আর এরপরে যেদিন আসবে তিন জায়গায় একসঙ্গে অভিযান হবে। কালীঘাট-লালবাজার-নবান্ন”।
প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে নবান্ন বা কালীঘাটে জারি রয়েছে ১৬৩ ধারা। সেই ধারা উপেক্ষা করেই কী এই অভিযান করবেন শুভেন্দু অধিকারী। কবে হতে চলেছে এই অভিযান। এই অভিযানকে কেন্দ্র করে যে ফের শহরে এক ডামাডোল পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য!





