রাজ্য জুড়ে চলছে তাপপ্রবাহ (heat wave)। তীব্র গরমে নাজেহাল বঙ্গবাসী। গরমের জেরে আজ, সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সাতদিন স্কুল-কলেজে গরমের ছুটির ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে বিরোধী দলগুলি। একদিকে যখন এই গরমের ছুটির সঙ্গে তৃণমূলের মিড ডে মিলের (Mid Day Meal) চাল চুরি করার সংযোগ দেখছে বিজেপি (BJP), তখন এই ছুটির কারণে পঠনপাঠনে খারাপ প্রভাব পড়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে সিপিএমের (CPM) তরফে।
গতকাল, রবিবার গরমের ছুটি প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সোমবার থেকে সরকারি, বেসরকারি স্কুলে ছুটি ঘোষণা করতে বলছি। মানুষের স্বার্থে একটা ব্যবস্থা করতে হবে না? সোম থেকে শনি— সব সরকারি এবং বেসরকারি স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছি ছুটি দিতে। সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করবে”।
এই ঘোষণার পরই মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “এই ছুটির ঘোষণা আসলে মিড মে মিল চুরি করার জন্য করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি ধরা পড়েছে। আরও টাকা কামাতে চায়। এই ঘোষণায় যে সব স্কুলে প্রাতঃকালীন বিভাগ রয়েছে, সেগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যেনতেনপ্রকারেণ স্কুলগুলি বন্ধ করে মিড ডে মিলের চাল চুরির বন্দোবস্ত করা হচ্ছে”।
তিনি আরও বলেন, “ছুটি দিয়ে স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ করে দেওয়া কোনও মানে হয় না। সে ক্ষেত্রে স্কুলগুলিকে সকালের দিকে করে দিলেই ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠন বন্ধ হত না। বিকল্প পথে পঠনপাঠন চালু রাখাই সরকারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু শিক্ষার চেয়ে চুরিই রাজ্য সরকারের কাছে বেশি প্রাধান্য পায়”।
অন্যদিকে, শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “যে ভাবে আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে তাতে আগামী দিনে গরম আরও বাড়ার সম্ভাবনা। প্রতি বারই কি পড়ুয়াদের লেখাপড়ার সময় এ ভাবে কমে যেতে পারে? বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত। আর উত্তরবঙ্গে জলপাইগুড়ি-সহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রীষ্ম এবং বর্ষা একটু দেরিতে আসে। তাই সেখানে এখনই ছুটি বাড়ানোর কোনও অর্থ হয় না”।





