নিজের গড়েই শুভেন্দুকে সভা করার অনুমতি দিল না পুলিশ, নন্দীগ্রামে অভিষেকের পাল্টা মহামিছিল করতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ বিরোধী দলনেতা

নিজের গড় নন্দীগ্রামে সভা-মিছিল করতে চান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়নি তাঁকে। সেই কারণে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শুভেন্দু।

আগামী ১৬ই জুন নন্দীগ্রামে বিজেপির কার্যালয় থেকে জানকীনাথ মন্দির পর্যন্ত মিছিল করতে চান শুভেন্দু অধিকারী। মিছিলের শেষে হবে সভা, এমনটাই পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এই কর্মসূচিতে মিলল না প্রশাসনের অনুমতি। সেই কারণে এই বিষয়টিতে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করান শুভেন্দু। বিচারপতি রাজশেখর মান্থা তাঁকে মামলা করার অনুমতিও দিয়েছেন বলে খবর। শুক্রবার এই মামলার শুনানি হতে পারে।

কিছুদিন আগেই শুভেন্দু বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে পদযাত্রা করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “দীর্ঘ ২০ কিমি পদযাত্রা আগে কেউ দেখেনি। দূষণমুক্ত হতে চলেছে রাজনীতি এই বাংলার নন্দীগ্রাম থেকেই। গদ্দারদের অবসান হতে চলেছে আগামী দিনে। আপনার গায়ে হাত পড়লে আমি আসব। এক ছটাক জমি দেবেন না বিজেপিকে। যদি দম থাকে ২০ কিমি রাস্তায় মিছিল করে দেখাও। রাতে জনগণকে নিয়ে মিটিং করো”।

তাঁর সেই চ্যালেঞ্জকেই কার্যত গ্রহণ করেন শুভেন্দু। সেই কারণে ১৬ই জুন নন্দীগ্রামে বড় কর্মসূচির ঘোষণা করেন তিনি। এদিনের এই সভা-মিছিলে বিজেপির নেতা-কর্মীদের সামিল হওয়ার আহ্বান জানান নন্দীগ্রামের বিধায়ক। অভিষেকের পদযাত্রাকে টেক্কা দেওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি করা হয়। কিন্তু এই সভা-মিছিলের জন্য মেলেনি প্রশাসনের অনুমতি। সেই কারণেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বিজেপি নেতা।

প্রসঙ্গত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবজোয়ার কর্মসূচিতে নন্দীগ্রামে জনপ্লাবন দেখা দিয়েছিল। বিশাল সভা–সমাবেশ করে বিজেপিকে তথা শুভেন্দুকে বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। সেই সভা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তুলেছিলেন যে কলকাতা থেকে লোক নিয়ে এসে জমায়েত করা হয়েছিল। সেই সময় শুভেন্দুর এই অভিযোগকে পাগলের প্রলাপ বলে ব্যাখ্যা করে তৃণমূল। এবার সেই নন্দীগ্রাম থেকেই অভিষেককে পাল্টা জবাব দিতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সেই মিছিল–সভা নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। সেই কারণে এবার শুভেন্দু দ্বারস্থ হলেন কলকাতা হাইকোর্টের।

RELATED Articles