বাংলাদেশ নিয়ে উত্তেজনার আঁচ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। সেদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার যেন কম হওয়ার নয়। ভারত-সহ নানান দেশ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারকে কড়া বার্তা দিচ্ছে কিন্তু তাদের কোনও হেলদোল নেই। এরই মধ্যে ভারতের পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশের নেতারা। এবার তা নিয়ে বাংলাদেশকে তুলোধোনা করলেন এ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কিছুদিন আগেই নিজের স্ত্রীর একটি শাড়ি পুড়িয়ে তা ভিডিও করেছিলেন বাংলাদেশের বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভি। সেই শাড়ি পুড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, শাড়িটি তাঁর স্ত্রীয়ের আর সেটি ভারত থেকে কেনা। সেই কারণে সেই শাড়ি পুড়িয়ে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন বিএনপি নেতা। এবার সেই ঘটনার পাল্টা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর চরম নির্যাতন ও ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেফতারির ঘটনায় এপার বাংলা থেকে তীব্র ক্ষোভ জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশকে কড়া বিবৃতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। এরপর থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে নানান হুঁশিয়ারি, গরমাগরম ভাষণ দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের তরফে। সেই ঘটনায় পাল্টা দিচ্ছে এপার বাংলাও।
গতকাল, রবিবার ভারতে শানিয়ে আবার রিজভি বলেন, “তারা (ভারত) চট্টগ্রামকে ভারতের অংশ বলে দাবি করবে বলেছে। ওই স্তরে তাদের ঔদ্ধত্য গিয়েছে। তো আমাদের মিলিত শক্তি, তারুণ্যের শক্তি নিয়ে আমরা এটাই বলব যে ঠিক আছে, তোমরা যদি চট্টগ্রাম দাবি করবে…….। কী কারণে (চট্টগ্রাম দাবি করবে)? তোমরা (ভারত) যদি ওটা দাবি করতে পারো, তাহলে আমরাও দাবী করব, আমাদের নবাব সিরাজদৌল্লার বাংলা, বিহার, ওড়িশা ফেরত দাও আমাদের। আমাদের ওটা ফেরত দিতে হবে। আমরা ওটার জন্যও দাবি করছি। এই সমস্ত ফাঁপা আওয়াজ দিয়ে কিছু হবে না”।
এবার পাল্টা বাংলাদেশকে তুলোধোনা করে বিএনপি নেতাকে তোপ দেগে শুভেন্দু বললেন, “আমরা ওদের (বাংলাদেশ) উপরে নির্ভর করি না। কে একটা বেয়াদব আছে বিএনপির, তার বউয়ের শাড়ি পোড়াচ্ছিল। ওই মোল্লা রিজভিকে আমি বলতে চাই যে তুমি কয়েকদিন আগে কলকাতায় এসেছিলে। তোমার হার্টে একটা রিং বসিয়ে নিয়ে গিয়েছ। ওটা ভারতে তৈরি। ওটা খুলে বের করে দাও। বউয়ের শাড়িটা পরে পোড়াবে। এরা (বাংলাদেশ) আমাদের উপরে নির্ভর করে”।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ইস্যু নিয়ে প্রতিনিয়ত আন্দোলন চলছে এপার বাংলায়। সনাতনী হিন্দু সমাজের তরফে বিক্ষোভ মিছিল, সীমান্ত অবরোধ করা হচ্ছে। সেই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারীও। এমনকি, বাংলাদেশে শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর সেই মন্তব্যের জন্যও বিএনপি নেতার তরফে তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে।





