ইকোপার্কে বাতিল করা হয়েছে অরিজিৎ সিংয়ের (Arijit Singh) শো। এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির অভিযোগ, অরিজিৎ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সামনে ‘গেরুয়া’ গান করার জেরেই এমন সিদ্ধান্ত সরকারের। এবার এই নিয়ে মমতাকে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর কথায়, পাকিস্তানি গায়ক গোলাম আলির শোয়ে রাজি, কিন্তু বাঙালি গায়ক অরিজিতের শো কেন বাতিল করা হল!
পাকিস্তানি গায়ক গোলাম আলির অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ায় এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সেইসময় টুইটারে লিখেছিলেন, “সংগীতকে সীমানার বেড়াজালে আটকানো যায় না। সংগীত হৃদয়ের ছন্দ। গুলাম আলিজির অনুষ্ঠান কলকাতায় হতে পারে। আমরা তার ব্যবস্থা করব”।
মমতার অতীতের এই টুইট টেনেই তাঁকে খোঁচা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। টুইটের স্ক্রিনশট দিয়ে শুভেন্দু লিখেছেন, “পাকিস্তানি গায়কের বেলা সংগীতকে সীমানার বেড়াজালে আটকানো যায় না আর হিন্দুস্তানি গায়কের বেলা বিষয়টা বদলে যায়”।
শুধুমাত্র শুভেন্দুই নন, অরিজিৎ সিংয়ের শো বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে শাসক দলকে কটাক্ষ করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “বেছে-বেছে অনুষ্ঠান বাতিল করা হচ্ছে। তৃণমূলের সঙ্গে না থাকলে করে খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু অরিজিৎ সিং নয়, যারা তৃণমূলের সঙ্গে নেই প্রত্যেকের শো বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে তৃণমূল বাংলার শিল্প-সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে”।
https://twitter.com/SuvenduWB/status/1608337040613183488
অরিজিতের শো বাতিলের খবরে নানান বিজেপি নেতাই এই নিয়ে শাসক দলকে কটাক্ষ করেছেন। বাদ যান নি অনুপম হাজরা, তরুণজ্যোতি তিওয়ারির মতো নেতারাও। বিজেপি নেতা ইন্দ্রনীল খাঁ টুইট করে এই প্রসঙ্গে লেখেন, অরিজিৎ তাঁর প্রিয় গান শুনিয়েছেন। এটা অসহিষ্ণুতার পরিচয়। ওই গান গাওয়ার জন্যই শো বাতিল করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সূচনা অনুষ্ঠান মঞ্চে অরিজিৎ সিংকে গান গাওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় ‘রঙ দে মোহে গেরুয়া’ গানটি করেন তিনি। এরপর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। অরিজিতের শো বাতিল হওয়া নিয়ে বিজেপি নেতাদের দাবী, অরিজিতের মুখে ‘গেরুয়া’ শব্দ শুনেই চটেছেন মুখ্যমন্ত্রী আর এই কারণেই শো বাতিল করেছেন তিনি।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে পাল্টা বিজেপিকে তোপ দেগে তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “অরিজিৎ সিং আমাদের অত্যন্ত প্রিয়। বাংলার গর্ব। তাঁর অনুষ্ঠান বাতিলের সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। এটা নিয়ে বাম-বিজেপি সস্তার রাজনীতি করছে। আর বামেরা কীভাবে প্রতিহিংসার রাজনীতির কথা বলে? ওঁদের আমলে তো ব্রাত্যর (ব্রাত্য বসু) সিনেমা-নাটক রিলিজ করতে দেওয়া হত না। সমস্যা করা হত। তৃণমূল এরকম কিছু করে না”।





“আগে হিন্দু, তারপর বাঙালি…যে রক্ষা আমাদের রক্ষা করবে, আমি তাদের দলে” “আমি হিন্দুস্থান চাই” বাংলায় পদ্মফুলের উত্থানেই খুশি অভিজিৎ ভট্টাচার্য! বিজেপির সাফল্যের পর খুললেন মুখ! গায়কের মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া!