শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে কয়লা পাচার, গরু পাচার নানান দুর্নীতিতে এখন বিদ্ধ রাজ্য সরকার। আর অন্যদিকে আবার বিজেপি অভিযোগ এনেছে যে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা দিয়ে নাম পরিবর্তন করে নানান প্রকল্পকে নিজেদের প্রকল্প বলে চালাচ্ছে। এই নিয়ে অতীতেও বারবার সরব হয়েছে বিজেপি (BJP)। আর এবার ফের একবার এই নিয়ে মুখ খুলে রাজ্য সরকারকে তোপ দাগলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
আজ, শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারে রক্তদান শিবিরে যোগ দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই মমতা সরকারকে তোপ দেগে তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্র সরকার যে টাকা দিয়ে চলেছে, তা পরিবর্তন করেই লক্ষ্মী ভাণ্ডারে দিয়ে চলেছে”।
তিনি আরও বলেন, “গত নয় মাস ধরে চুরি করে চলেছে। পরবর্তীতে হিসাব পর্যন্ত দিতে পারেনি। তাই ১০০ দিনের টাকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘জল জীবন মিশন’-এর নাম পরিবর্তন করে হয়েছে ‘জল স্বপ্না’। মিড ডে মিল থেকে শুরু করে অন্যান্য বহু ক্ষেত্রে দুর্নীতি চরমে উঠেছে। কেন্দ্র সরকারকে বলে ওদের খাওয়া বেশ কিছু অংশে বন্ধ করা গিয়েছে। তাই এখন আবার আমার পিছনে পুলিশ লাগিয়েছে”।
শুভেন্দুর সংযোজন, “তৃণমূল কংগ্রেস ফুটো কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিচ্ছে না। ছেলেমেয়েরা চাকরি পাচ্ছে না। প্রাথমিক চাকরি থেকে আপার এবং এসএসসিতে যথাক্রমে ১০, ১২ এবং ২০ লাখ পর্যন্ত নিচ্ছে। সংখ্যালঘু মানুষরাও ওদের সঙ্গে নেই। পাকিস্তান জিতলে যারা বোম ফাটায়, কেবল তারাই রয়ে গিয়েছে”।
এখানেই শেষ নয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে একের পর এক আক্রমণ শানান শুভেন্দু। বলেন, “কলকাতা থেকে নন্দীগ্রামে এসে বলেছিল, নন্দীগ্রাম ওর ছোট বোন। ফিনাইল বিচিং দিয়ে তাড়িয়েছি। বর্তমানে পুরো দলটাই ভোক্কাটা হয়ে গিয়েছে”। এর পাশাপাশি বাংলার পুলিশকেও কটাক্ষ করেন তিনি।
তবে শুভেন্দুর এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসক দল। তৃণমূলের কথায়, “আমাদের সাথে পেরে না ওঠার কারণে কেন্দ্রের টাকা বন্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়ে চলেছে। বাংলার মানুষকে বঞ্চনা করার ষড়যন্ত্র করছে শুভেন্দু”।





