“শুভেন্দু তো দিদিরিই সৈনিক”, স্পষ্ট জবাব তৃণমূলের মুখপাত্রের

বেশ কয়েকদিন ধরে জল্পনা তৈরি হচ্ছিল দলে শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থান নিয়ে। কিন্তু এবার সব জল্পনায় জল ঢেলে তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাশিস চৌধুরী ভরা বৈঠকে বলেন শুভেন্দু এখনও মুখ্যমন্ত্রীর হয়েই কাজ করছেন। তিনি এখনও মন্ত্রিসভায় আছেন। তার দলবদলের আশঙ্কা আসলে ভুয়ো। দলের ভাঙনের জন্যই এসব চক্রান্ত করা হচ্ছে।

ইদানিং শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা গিয়েছে দলকে খানিক এড়িয়েই চলতে। তৃণমূলের কোনও বৈঠক বা অনুষ্ঠানে সেরকমভাবে অংশ নিচ্ছিলেন না পরিবহন মন্ত্রী। তার অনুগামীরা তার নামে প্রচার চালালেও সেখানে কোনও দলের নাম উল্লেখ থাকছে না। এইসব নিয়ে রাজনৈতিক দলের অন্দরে বিস্তর গুঞ্জন শোনা যায়। দলহীন কর্মসূচিই করছেন শুভেন্দু কিন্তু সেখানে তৃণমূল বা তৃণমূলের নেত্রীর কোনও চিহ্ন বা ছবি থাকছে না। এই নিয়ে বিভিন্ন স্তরে নানান মন্তব্যও শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এই নিয়ে অবশ্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে শুভেন্দু বা তার অনুগামীদের সম্পর্কে কোনও অভিমত প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। কিন্তু ধীরে ধীরে যে শুভেন্দু দলহীন জনসংযোগের মাত্রা বাড়াচ্ছেন, তা তার কার্যকলাপ থেকে স্পষ্ট।

সম্প্রতি মেদিনিপুরে একটি সাংবাদিক বৈঠকে মুখোমুখি হন তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাশিস চৌধুরী। সেখানে তাকে শুভেন্দু’র তৃণমূল দলে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমি শুনেছি শুভেন্দু অধিকারী নিজেই ঘোষণা করেছিলেন যে আমাদের দলের একজনই নেত্রী, আমি তাঁর সৈনিক। এরপর আমার আর কী বলার থাকতে পারে।”

এরপর তাকে শুভেন্দুর দলহীন কর্মসূচী নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যে কেউ বা কারা তৃণমূলের লড়াইয়ের অভিমুখ ঘোরানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা এই বিষয়ে সফল হবে না। তৃণমূল সরকার যাতে আবার ফিরে আসতে পারে তার জন্য সব রকম প্রচেষ্টা চালাচ্ছে দল। এরপর বিজেপি’র প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন যে তৃণমূলের পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মীরা বিজেপির এই কৌশল খুব সহজেই ধরতে পারবে। ছেড়ে কথা বলেনি বিজেপিও। বিজেপির জেলা সভাপতি শমিত দাস বলেন, “তৃণমূল নিজেই ভেঙে যাবে, এর জন্য কাউকে কোনও কৌশল নিতে হবে না।”

এই পরিস্থিতির জেরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে। যদিও শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে কোনও মতামত পেশ করেননি। বছর গড়ালেই বিধানসভা ভোট। এই অবস্থায় শুভেন্দুর এই দলহীন জনসংযোগ তাকে কতটা সাফল্য এনে দেয়, এখন তাই-ই দেখার।

RELATED Articles