রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী। তার মধ্যেই শনিবারের একটি ঘটনা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে ফের নিরাপত্তা প্রশ্নে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দিনের শেষে এই ঘটনা শুধু রাজ্য রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, পৌঁছে গিয়েছে দিল্লির দরবারেও। ঠিক কী ঘটেছিল শনিবার সন্ধ্যায়, তা নিয়ে নানা দাবি-পাল্টা দাবি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
শনিবার পুরুলিয়ায় কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা রোড দিয়ে যাচ্ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় রাস্তার একদিকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে জানা যায়। বিপরীত দিকে তৃণমূলের পতাকা হাতে কয়েকজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। অভিযোগ, শুভেন্দুর গাড়ি ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময়ই আচমকা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, তাঁর গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
ঘটনার পর শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি চন্দ্রকোনা পুলিশের বিট হাউসে পৌঁছে যান। সেখানেই তিনি অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। আইসির ঘরের মেঝেতে বসে পড়েন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, প্রায় ১২ থেকে ১৫ জন এই হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং পুলিশের মদত ছাড়াই এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। এমনকী হামলাকারীদের হাতে পেট্রল-ডিজেল ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দোষীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান শুভেন্দু।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর উপর একের পর এক হামলা হচ্ছে। পাল্টা তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী দাবি করেন, কোনও হামলাই হয়নি, শুধুমাত্র স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আরও পড়ুনঃ West Bengal SIR : SIR ঘিরে মৃত্যুর অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি, তার মাঝেই বাংলায় চার স্পেশাল অবজার্ভার পাঠাল নির্বাচন কমিশন!
এদিকে ঘটনার রেশ পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পর্যন্ত। বিরোধী দলনেতার অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। সমস্ত ভিডিয়ো ফুটেজ কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে, শুভেন্দুর গাড়িতে হামলার অভিযোগে রাত থেকেই একাধিক জেলায় বিক্ষোভে নামেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ ও থানা ঘেরাও করে প্রতিবাদ দেখানো হয়। এখন নজর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই রিপোর্ট দেখে কী পদক্ষেপ করে।





