বাংলাদেশে পৌষ পার্বণ ঘিরে আতঙ্ক হিন্দু সমাজে ফতোয়ার ছায়ায় উৎসবের আনন্দ ম্লান

বাংলাদেশে আবারও প্রশ্নের মুখে ধর্মীয় সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা। হিন্দুদের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব মকর সংক্রান্তি বা পৌষ পার্বণকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ইসলামি মৌলবাদী গোষ্ঠীর তরফে এই উৎসবকে ইসলামে হারাম ঘোষণা করে ফতোয়া জারি করা হয়েছে। শুধু তাই নয় হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যে উৎসব বন্ধ রাখার হুমকি দিয়ে পোস্টার ও বার্তা ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি। ফলে নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দের সময় আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছে সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজের মধ্যে।

পৌষ পার্বণ মানেই বাংলার ঘরে ঘরে পিঠেপুলির গন্ধ নবান্নের আনন্দ আর সামাজিক মিলন। বহু বছর ধরে দুই বাংলাতেই ধর্ম নির্বিশেষে এই উৎসব ঘিরে ছিল উচ্ছ্বাস। বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে মেলা অনুষ্ঠান ও সামাজিক উৎসবের আয়োজন দেখা যেত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই চেনা ছবি বদলে যেতে বসেছে। মৌলবাদী প্রচারে বলা হচ্ছে এই উৎসব ইসলামের পরিপন্থী এবং এতে অংশগ্রহণ অনুচিত। এর ফলে বহু হিন্দু পরিবার প্রকাশ্যে উৎসব পালন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।

এই ফতোয়া ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই মৌলবাদী শক্তি আরও সক্রিয় হয়েছে। সংখ্যালঘুদের দাবি প্রশাসনের নীরবতাই এই ধরনের উগ্র মনোভাবকে উৎসাহ দিচ্ছে। এর আগেও সরস্বতী পুজোর ছুটি বাতিল কিংবা অমর একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবার সরাসরি একটি লোকজ বাঙালি উৎসবের উপর আঘাত সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করেছে।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে একাংশের মত এই ধর্মীয় ফতোয়ার আড়ালে রয়েছে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক দমননীতি। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা লুটপাট এবং হুমকির অভিযোগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি গত কয়েক মাসে একাধিক হিন্দু নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। উৎসব বন্ধের ডাক সেই ধারাবাহিক চাপেরই আরেকটি রূপ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari: “পুলিশের মদতেই আমার গাড়িতে হামলা” — শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ, চন্দ্রকোনা কাণ্ডে রিপোর্ট চাইল শাহের মন্ত্রক!

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বহু হিন্দু পরিবারের মনে প্রশ্ন উঠছে ভবিষ্যৎ নিয়ে। একটি উৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয় বরং বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ। সেই উৎসবকে কেন্দ্র করে ভয় অনিশ্চয়তা আর নিরাপত্তাহীনতা ছড়ালে সমাজের ভিতই দুর্বল হয়। পৌষ পার্বণের আনন্দে যে ভাঙন ধরেছে তা শুধু একটি দিনের উৎসবে সীমাবদ্ধ নয় বরং তা বাংলাদেশের বহুত্ববাদী পরিচয়ের উপর গভীর ছায়া ফেলছে বলে মনে করছেন বহু মানুষ।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles