বিতর্কের মাঝেই পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। অবশেষে ভেঙে ফেলা হল শান্তিনিকেতনের সেই বিতর্কিত ফলক যাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম ছিল না। গতকাল, বুধবার সন্ধ্যায় সেই ফলক ভেঙে গুঁড়িয়ে পরিবর্তে প্রতিস্থাপন করা হল নতুন ফলক যাতে নাম যুক্ত হল রবি ঠাকুরের।
উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর তরফে শান্তিনিকেতনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তকমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই শান্তিনিকেতনের সঙ্গেই তাঁর নাম সম্পৃক্ত, সেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামই নেই ফলকে। ইউনেস্কোর তরফে স্বীকৃতি পাওয়ার পর বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে রবীন্দ্র ভবন, উপাসনা গৃহ, সঙ্গীত ভবন, কলাভবন, ছাতিমতলা নানান জায়গায় শ্বেত পাথরের ফলক বসানো হয়।
সেই ফলকে আচার্য নরেন্দ্র মোদী ও উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর নাম রয়েছে ঠিকই। কিন্তু নাম নেই আসল মানুষটারই। তিনি হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। হ্যাঁ, শান্তিনিকেতনের নামফলক, অথচ সেখানে নাম নেই স্বয়ং রবীন্দ্রনাথেরই। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন প্রাক্তনী থেকে শুরু করে আপামর রবীন্দ্রপ্রেমীরাই। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ১৪ দিন ধরে টানা আন্দোলন করে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রী-বিধায়ক-সাংসদেরাও। প্রতিবাদ জানায় শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট, প্রাক্তনী ও প্রবীণ আশ্রমিকেরা।
গত ৮ নভেম্বর বিদ্যুৎ চক্রবর্তী উপাচার্যকে পদ থেকে সরানো হয়। এরপরই বিতর্কিত ফলক সরানোর নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক। সেই অনুযায়ী, গতকাল, বুধবার সন্ধ্যেয় বিশ্বভারতীর তরফে বিতর্কিত সেই ফলক ভেঙে তুলা দেওয়া হয়। এর পরিবর্তে বসানো হয়েছে নতুন ফলক। সেই ফলকে আচার্য প্রধানমন্ত্রী বা উপাচার্যের নাম নেই। এই ফলকে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। ফলকের মাঝে রয়েছে অশোক স্তম্ভ আর দু’পাশে রয়েছে ইউনেস্কো ও বিশ্বভারতীর লোগো। স্বাভাবিকভাবেই এই পদক্ষেপে খুব খুশি বিশ্বভারতীর পড়ুয়া, অধ্যাপক, প্রাক্তনী ও আশ্রমিকরা।
প্রবীণ আশ্রমিক সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীকে রবীন্দ্রনাথের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ফলক প্রসঙ্গে জানানো হয়। ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং নতুন ফলক প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেনেই সকলেই খুশি”।
কী জানান রাজ্যের মন্ত্রী?
এই বিষয়ে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, “জোর করে স্বার্থসিদ্ধির জন্য কোনও নির্দেশিকা ছাড়াই ফলক লাগিয়েছিলেন প্রাক্তন উপাচার্য। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ১৪ দিন আন্দোলনের ফল পেলাম। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথকে বাঙালির হৃদয় থেকে মুছে ফেলার চক্রান্ত হয়েছিল। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ফলক ভেঙে ফেলায় প্রকারান্তে ভুলও স্বীকার করে নিল”।





