দল নয়, আমরা ‘দাদার অনুগামী’! নন্দীগ্রামের সভায় শহিদ পরিবারের সদস্যদেরও পাশে পেলেন শুভেন্দু

গতকাল ছিল নন্দীগ্রামে শহিদ দিবস। এই কারণে বুধবার মধ্যরাতেই সূর্যোদয়ের আগে ভাঙাবেড়ায় তিনি শহিদ মিনারে শহিদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে এসেছেন। এই নিয়েই তাঁকে শাসকদলের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে। আজ, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর সভা। এই সভাতে উপস্থিত থাকবেন শহিদ পরিবারের সদস্যরাও।

এদিনের শুভেন্দুর সভায় হাজির থাকবেন মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা। এদিনের সভাস্থলে নন্দীগ্রামের শহিদদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও আলাদা আসন করা হয়েছিল। তারা সকলে আনন্দের সঙ্গেই জানিয়েছেন যে তাঁরা শুভেন্দুর সভায় উপস্থিত থাকবেন।

গত ১৯শে ডিসেম্বর বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। এরপর থেকেই নন্দীগ্রামের শহিদ পরিবারের সদস্যরা জানান যে, তাঁরা শুভেন্দুর সঙ্গেই আছেন। এরপর এদিনের সভাতে হাজির হয়ে তাঁরা আবারও বুঝিয়ে দিলেন যে তাঁরা দল নয়, দাদার অনুগামী।

শহিদ পরিবারের সদস্যরা এদিন জানান যে, নন্দীগ্রাম কাণ্ডের পর গত ১৪ বছর ধরে সমস্ত পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন শুভেন্দু। গরীব পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের বিপদে-আপদে ছুটে গিয়েছেন। চিকিৎসার বন্দোবস্ত করেছেন। ফলে শুভেন্দুর হাত ছাড়া বা তাঁর বিরোধিতা করা কোনও মতেই সম্ভব নয়।

শুভেন্দু বিজেপিতে যোগদানের পর শাসকদল থেকে বলা হয়, তিনি নাকি নন্দীগ্রামের মানুষদের ঠকিয়েছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এও চ্যালেঞ্জ করা হয় যে, আগামী নির্বাচনে নন্দীগ্রামের কোনও ভোট পাবেন না শুভেন্দু। কিন্তু শুভেন্দুও পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে বলেন যে ভোটের সময়ই দেখা যাবে, নন্দীগ্রাম আসলে কার? আর আজ শহিদ পরিবারের সদস্যরা শুভেন্দুর সভায় উপস্থিত থেকে কার্যত প্রমাণ করে দিলেন যে নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁকে ভালোবাসতো, আর আজও বাসে। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের স্বীকৃতির মুকুট পড়বেন তিনিই।

গতকাল, বৃহস্পতিবার নেতাইতে গিয়েও শাসকদলের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, আমার সঙ্গে ৯ জন শহিদের পরিবার, আর ওদের মঞ্চে মাত্র ২ জন। গতকালের পর আজও নন্দীগ্রামের সভাতে ফের একবার শহিদ পরিবারদের পাশে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শুভেন্দু।

RELATED Articles