আর জি করের ঘটনা নিয়ে একটার পর একটা এমন তথ্য সামনে আসছে যা তদন্তের মোড় ঘোরানোর জন্য যথেষ্ট। এই ঘটনায় প্রথম থেকেই নানান অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে নিয়ে। এরই মধ্যে এবার সামনে এল সেই নাম যিনি কি না আর জি করের সেমিনার রুম চত্বর ও তার পাশের ঘর ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
গত ৯ আগস্ট আর জি করের চারতলার সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয় তরুণী চিকিৎসকদের দেহ। ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সকলের ধারণা, একজন নয়, এই কাজে যুক্ত একাধিক। প্রথমে এই ঘটনার তদন্ত করছিল রাজ্য পুলিশ। সেই সময়ই ১০ আগস্ট আচমকাই সেই সেমিনার রুম চত্বর ও তার পাশের ঘর ভাঙা শুরু হয় সংস্কারের নামে। কার নির্দেশে সেই ভাঙাভাঙি হল, ওঠে প্রশ্ন।
প্রথম থেকেই এই ঘটনায় প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। তারই মধ্যে সেমিনার রুমের পাশের ঘর ভাঙা শুরু হওয়ায় ‘প্লেস অফ অকারেন্স’ থেকে প্রমাণ মুছে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। কেন হঠাৎই সেই ঘর ভাঙতে উদ্যত হল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ? সেইসময়ই বা কেন সংস্কার করতে হল? সেই ভাঙাভাঙির নির্দেশ কে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে ওঠে। সুপ্রিম কোর্টেও এই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এবার জানা গেল সেই নাম যিনি এই সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পিডব্লিউডি-কে লেখা পারমিশন লেটারে দেখা গেল চিকিৎসকদের অন ডিউটি সেই রুম-শৌচাগার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ সন্দীপ ঘোষ। সেই নির্দেশনামা ১০ আগস্টের। সেখানে সউ রয়েছে সন্দীপের। ৯ আগস্ট সেমিনার রুমে মিলল তরুণীর দেহ, তাহলে ১০ আগস্ট কেন সেখানেই ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্দেশনামায় দেখা গিয়েছে, এই নির্দেশ পূর্ত বিভাগের সিভিল ও ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারদের দেন সন্দীপ ঘোষ। ১০ আগস্ট প্ল্যাটিনাম জুবলি বিল্ডিংয়ে যে বৈঠক হয়, তাতে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা কৌস্তভ নায়েক। তাদের সিদ্ধান্ত মতোই সন্দীপ নির্দেশ দেন বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনায় যে প্রমাণ লোপাট হয়ে থাকতেই পারে, তেমনটাই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘মমতাকে ফাঁসানো হয়েছে’! হাতে ‘বিজেপি’র পতাকা, মাথায় গেরুয়া টুপি পরে দাবী বৃদ্ধার, ভিডিও দেখিয়ে প্রমাণ দিল তৃণমূল!
এই প্রসঙ্গে আন্দোলনকারী চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, “ঘটনাটি ঘটার পর থেকে ধামাচাপা দেওয়ার যে চেষ্টা, তথ্য প্রমাণ লোপাটের যে চেষ্টা, সন্দীপ ঘোষ-সহ পুরো সিন্ডিকেট। যারা সাস্থ্য ব্যবস্থায় রাজ চালিয়ে আসছিলেন, যে নামগুলো সামনে আসছে, তাঁরা প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে জড়িত। আমরা প্রথম থেকে দাবি করেছিলাম, কলেজ কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে”।





