এখানেই পড়েছিল সতীর কোমরের অংশ, তন্ত্র সাধনার সঙ্গে মিলে গেল বাউল গান, অনন্য সংমিশ্রণেই পূজিত হন কঙ্কালীতলার মা কালী

একদিকে চলছে তন্ত্র সাধনা আর অন্যদিকে চলছে বাউল গান। এ যেন এক অনন্য মিশ্রণ। এই দুই বিপরীতধর্মী সংস্কারের মেলবন্ধনেই পূজিত হন বীরভূমের হন কঙ্কালীতলার মা কালী। বীরভূমের মাটি যেমন শক্তিদেবীর সাধনভূমি, তেমনই আবার এই মাটিতেই মিশে রয়েছে আউল বাউলের সহজিয়া সুরও।

বীরভূমের এই কঙ্কালীতলা সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে একটি পীঠ। বলা হয়, এই স্থানে মা সতীর কাঁখাল অর্থাৎ কোমরের অংশ পড়েছিল। ৫১ সতীপীঠের শেষ পীঠ বলে পরিচিত এই কঙ্কালীতলা। আজ দীপান্বিতা অমাবস্যায় মায়ের গর্ভগৃহে চলছে তন্ত্র মন্ত্রের পুজো। আর মন্দিরের চত্বরে চলছে আরও এক সাধনা, বাউল গান।

কেন এমন নাম এই স্থানের?

এই মন্দিরের পাশেই রয়েছে একটি কুণ্ড। বলা হয়, এই কুণ্ডের ঈশাণ কোনে দেবী সতীর কাঁখাল নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। মানুষের বিশ্বাস, দেবী ছাড়াও পঞ্চশিব অবস্থান করছেন এই কুণ্ডে। কোমর বা কাঁখাল থেকে স্থানীয় ভাবে দেবীর নাম রয়েছে কঙ্কালী। পৌরাণিকভাবে এখানকার দেবী বেদগর্ভা নামেই পরিচিত। প্রচলিত নামানুসারেই এলাকার নাম হয়েছে কঙ্কালীতলা। 

বীরভূম জেলায় জলকষ্ট অনেক জায়গায়, কিন্তু প্রবল গরমেও এখানে কুণ্ডে জল টলটল করে। এই মন্দির অন্যান্য সতীপীঠের থেকে অনেকটাই আলাদা। কারণ এই মন্দিরে কোনও শিলামূর্তি নেই। মন্দিরে পাথরের বেদীর ওপর সতীর কালীরূপী চিত্রপট রয়েছে। সেই চিত্রপটেই হয় মায়ের পুজো। মায়ের গর্ভগৃহের সামনে দাঁড়িয়ে নিশ্চিন্তে পুজো দেন ভক্তরা।

আজ কালীপুজোর দিন বীরভূমের নানান প্রান্ত থেকে বাউল শিল্পীরা মন্দির চত্বরে এসে জড়ো হয়েছেন। বাউলের একতারা আর বাঁশির সহজিয়া সুরে দীপান্বিতারই সমবেত আরাধনা চলছে। কঙ্কালীতলার মন্দির চত্বরে বাউলের একতারা আর বাঁশির সংমিশ্রন দ্বীপান্বীতার কাছে যেন সেই আদি অনন্ত কালের আলোর প্রার্থনাই জানিয়ে চলেছে।

বাউল সাধক বললেন, “স্থান-কাল-সময় আছে মায়ের সাধনা করার জন্য। আমরা গানের মাধ্যমেই করছি সাধনা”।

RELATED Articles