তিন বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করা আউশগ্রামের কলিতা মাঝি এবার পদ্ম প্রার্থী! ছুটি নিয়ে চলছে প্রচার

প্রার্থী তালিকা নিয়ে তৃণমূলের মতো বিজেপিতেও ক্ষোভ, অসন্তোষ মাত্রা ছাড়িয়েছে। কিন্তু তার‌ই মাঝে দু’জন প্রার্থীকে নিয়ে উত্তেজনা মাত্রাছাড়া। জিততে পারবেন কিনা জানা নেই তবে তাঁদের লড়াই নজর কাড়বে তা বলা বাহুল্য।

যেমন  প্রথম জন হলেন বাঁকুড়া জেলার শালতোড়ার বিজেপি প্রার্থী চন্দা বাউরি। অন্যজন পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাঝি।

চন্দনার স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রী। মাথার উপর একটা নড়বড়ে টালির চালা। আর সেই বাড়িতে তিন সন্তান, স্বামী আর ছয়টি গবাদি পশুকে নিয়ে দিন কাটে এই বিজেপি প্রার্থীর।

আরও পড়ুন – আশঙ্কা সত্যি! তালিকা প্রকাশ হতেই অসন্তোষের ছায়া বিজেপির অন্দরে, রণক্ষেত্রের চেহারা নিল জলপাইগুড়ি

অন্যদিকে বিজেপির আউশগ্রামের প্রার্থী কলিতা মাঝির জীবনযাত্রা‌ও কাছাকাছি একই রকম। এই পদ্ম প্রার্থীর স্বামী পাইপলাইনের মিস্ত্রী। কলিতাদেবী নিজে বিভিন্ন বাড়ি ঘুরে পরিচারিকার কাজ করেন। টাকা পয়সার অভাবে বেশিদূর পড়াশোনাও হয়নি। বিয়ে করেও ভাগ্য বদলায়নি কলিতাদেবীর। দারিদ্রকে নিত্যসঙ্গী করে জীবনের লড়াই লড়ছেন তিনি।

আরও পড়ুন – জায়গা বদল! সরলেন পায়েল, ঢুকলেন শোভন, নজরে বেহালা পূর্ব

প্রসঙ্গত, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব বর্ধমানের তফসিলি জাতি সংরক্ষিত আসন আউশগ্রাম বিধান সভা থেকে কালিতা মাঝিকে প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির। তবে এখানে কোন‌ও ক্ষোভ নয়, বিজেপির প্রার্থী তালিকায় নাম আসার পরই খুশির হাওয়া ওঠে মাঝি পরিবারে। সঙ্গে সঙ্গে কলিতা মাঝিও মনিবদের থেকে মাস দেড়েকের ছুটিও নিয়ে নেন। আর নেবেনই বা না কেন? শুধু প্রার্থী হলেই কি হবে, প্রচারও তো করতে হবে। কলিতাদেবীকে প্রার্থী করার পর বিজেপির কর্মীরাও বেজায় খুশি হয়েছেন।

কলিতাদেবীর পুত্র পার্থ মাঝি বর্তমানে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। তাঁকে ভালো লেখাপড়া শিখিয়ে অনেক বড় করার ইচ্ছে আছে মাঝি দম্পতির।

কি করবেন ভোটে জিতলে? কলিতাদেবী জানান, অর্থের অভাবে বেশিদূর পড়াশোনা করতে পারিনি। কিন্তু আমার ইচ্ছে পয়সার অভাবে যেন আগামী দিনে কারোর পড়াশোনা না বন্ধ হয়। এই কারণে আমি ভোটে জিতলে অভাবি পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের পড়াশোনার সুযোগ করে দেব। আমি গরিবের যন্ত্রণা বুঝি, তাই আমি চাই না আমার সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা আরও কারোর সঙ্গে হোক।

গুসকরার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কলিতা মাঝি গুসকরা শহরের তিনিটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। সকালে ঘুম থেকেই উঠেই কাজে বেরিয়ে যান তিনি। তবে এখন ভোটের জন্য মালিকদের বাড়ি থেকে ছুটি নিয়েছেন তিনি।

RELATED Articles