ভারতে না গেলে কীভাবে চিকিৎসা হবে…! ওপার বাংলায় হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় বন্ধ সীমান্ত, মহা চিন্তায় বহু বাংলাদেশি

করোনা পরিস্থিতির পর থেকে বাংলাদেশের ভিসা বাতিল হলেও মেডিক্যাল ভিসা চালু রয়েছে। ওপার বাংলার বহু মানুষজন কলকাতা বা দক্ষিণ ভারতে আসেন চিকিৎসার জন্য। কিন্তু সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে ফাটল ধরেছে তার জেরে মহাবিপাকে হাজার হাজার বাংলাদেশি। সীমান্ত পেরিয়ে আপাতত এদেশে আসা বন্ধ তাদের। ফলে চিকিৎসা কীভাবে হবে, তা নিয়ে উদ্বেগে তারা।

বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর সেদেশে তৈরি হয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। তাঁর জমানায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিণতি চরমে উঠেছে। তাদের উপর চলছে অকথ্য অত্যাচার, চলছে হিন্দু মন্দির ভাঙচুর। গ্রেফতার করা হয়েছে ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে। ভারতের তরফে বাংলাদেশকে কড়া বিবৃতি দিয়েও লাভ হয়নি। এমন আবহে বন্ধ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। আবার কলকাতার একাধিক হাসপাতাল ও চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা করবেন না। এর ফলে চিন্তায় হাজার হাজার বাংলাদেশি।   

জানা গিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে স্ত্রীর কিডনির রোগের জন্য কলকাতায় আসেন ঢাকার বাসিন্দা মহম্মদ মুর্তাফিজ। চেন্নাইয়ের হাসপাতালে তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসা হয়েছিল। সেই চিকিৎসক কয়েক মাস অন্তর কলকাতার মল্লিকবাজারে রোগী দেখেন। মুর্তাফিজ জানান, “সপ্তাহ দুয়েক আগে ওই চিকিৎসক কলকাতায় এসে ঘুরে গিয়েছেন। কিন্তু স্ত্রীকে নিয়ে যেতে পারিনি। আপাতত যে ওষুধ চলছে, সেটাই ভরসা। কিন্তু চিকিৎসককে না দেখিয়ে এ ভাবে কত দিন চলবে”।

উদ্বেগে সিলেটের বাসিন্দা নুস আহমেদও। বছরখানেক আগে ই এম বাইপাসের একটি হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছিল তাঁর। চিকিৎসা জানিয়েছিলেন, আরও কয়েক বছর এই অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসা চলবে। ফলে নিয়মিত কলকাতায় যাতায়াত করেন তিনি। কিন্তু এবার আরনা আসতে পারলে পরবর্তী চিকিৎসা কীভাবে হবে, তা নিয়ে চিন্তার মধ্যে তিনি। নুরের কথায়, “হঠাৎ করেই দু’দেশের সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেল। এখন তো কলকাতার চিকিৎসকদের একাংশ বাংলাদেশিদের চিকিৎসা করবেন না বলে জানিয়েছেন। আমাদের মতো রোগীদের কী হবে, জানি না”।

আরও পড়ুনঃ কু’খ্যাত কয়লা মা*ফিয়া সংবর্ধনা জানাচ্ছেন তৃণমূল নেতাকে, ছবি সামনে আসতেই তুমুল অ*স্বস্তিতে শাসক দল 

আবার নানান দফত্রঘুরে ঘুরে ভারতে আসার অনুমতি পান নি জান্নাতুর ফিরদৌজ। তাঁর স্বামী মহম্মদ আলি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। কলকাতায় এসে চিকিৎসা করিয়েছিলেন এর আগে। ফের নভেম্বরে আসার কথা ছিল তাদের। কিন্তু আসতে পারেন নি। জান্নাতুরের কথায়, “স্বামীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতায় যেতে না পেরে ঢাকাতেই এক জন চিকিৎসককে দেখিয়েছি। কিন্তু আশানুরূপ ফল মিলছে না। ফুসফুসে জল জমছে। দু’দেশের সম্পর্ক মুষ্টিমেয় কয়েক জন নিজেদের স্বার্থে বিষিয়ে দিচ্ছেন। এর ফল আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের ভুগতে হচ্ছে”।

RELATED Articles