ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। সেদেশে যে হারে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন, হিন্দু মন্দিরে হামলার ঘটনা বেড়েছে, তাতে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়েছে এপার বাংলাতেও। ভারতের তরফে এই নিয়ে বাংলাদেশকে কড়া বার্তা দেওয়া হলেও সেদেশের অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকার যেন নির্বাক।দুই দেশের মধ্যে বিদেশ সচিব পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনও রফাসূত্র এখনও মেলেনি।
এমন আবহেই এবার বাংলাদেশের উগ্রপন্থীরা ভারতকে নানান হুঁশিয়ারি শানিয়ে যাচ্ছেন। দু’দিন আগেই বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনাকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তারা নাকি চারদিনের মধ্যে কলকাতা দখল করবে। আবার কেউ দাবী করেছে, বাংলা-বিহার-ওড়িশা দখল করবে তো কেউ আবার আরও একধাপ এগিয়ে বলেছে, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতই দখল করবে বাংলাদেশ।
আবার ভারতকে জঙ্গিদের আখড়া বলে আক্রমণ শানিয়েছে বাংলাদেশের এক ছাত্র নেতা। তার মতে, “বাংলাদেশে যারা নিষিদ্ধ, যারা জঙ্গি, তাদের ভারতে আশ্রয়। ভারত জঙ্গিদের আশ্রয় দিলে, প্রশ্নের মুখে পড়বে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক”।
কৃতজ্ঞতার লেশমাত্র নেই সেই দেশের মধ্যে। যে দেশ থেকে তাদের জন্ম, যে দেশ তাদের স্বাধীনতার জন্য, তাদের পাকিস্তানের কবল থেকে মুক্ত করার রক্ত ঝরিয়েছে, সেই দেশকেই আজ এত অপমান, সেই দেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করছে বাংলাদেশ। বরং তাদের এখন বন্ধু হয়ে উঠেছে পাকিস্তান।
তবে বাংলাদেশের নানান দাবী নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে রাজি নয় ভারত। সেই দাবীকে ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। সামরিক শক্তিতে যে বাংলাদেশ ভারতের ধারেকাছে আসে না, তা কারোর জানতে বাকি নেই। তবে বাংলাদেশ যে তলে তলে পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলছে, সেই প্রমাণ মিলল এবার।
ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক দ্বন্দ্বের মাঝেই এবার এক পাক কট্টরপন্থীকে বলতে শোনা গেল, “বাংলাদেশের ভাইদের বলছি, পাকিস্তানের পরমাণু বোমাও তোমাদের। কেউ চোখ তুলে দেখলে চোখ উপড়ে নেব, হাত তুললে হাত ভেঙে দেব”।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের বিদেশসচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী জানান, “আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং উভয়ের ক্ষেত্রে লাভজনক একটা সম্পর্ক চায়। আমরা অতীতেও এই সম্পর্ক বজায় রেখেছি এবং ভবিষ্যতেও জনগণকেন্দ্রিক সেই সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই”। তবে বাংলাদেশ যে মোটেই ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে রাজি নয়, তা বেশ স্পষ্ট।





