‘সততার প্রতীক উনি, আদর্শ থেকে কখনও পিছপা হন নি’, নিজের দলের নেতারা তো বটেই, বুদ্ধবাবুর প্রশংসায় তৃণমূল-বিজেপি-কংগ্রেস, রাজনীতিতে যা বিরল!

অবসান ঘটেছে সিপিএমের এক অধ্যায়ের। পাম অ্যাভিনিউতে নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ৮০ বছর বয়সে জীবনাবসান হয় তাঁর। দু’কামরার ফ্ল্যাট থেকে কোনওদিন বেরোতেই চান নি। সেই ফ্ল্যাট থেকেই আজীবনের জন্য বেরল তাঁর মরদেহ। আপাতত বুদ্ধবাবুকে রাখা হয়েছে পিস ওয়ার্ল্ডে। আগামীকাল, শুক্রবার বুদ্ধবাবুর মরদেহ শায়িত থাকবে আলিমুদ্দিন স্ট্রীটে। এরপর বিকেল ৪টের সময় শুরু হবে বুদ্ধবাবুর শেষযাত্রা।

ছাত্রজীবন থেকেই শুরু রাজনীতি। তারপর ধীরে ধীরে রাজনৈতিক জীবনে এক উচ্চতায় পৌঁছন তিনি। রাজ্যের ক্ষমতাও ছিল তাঁর হাতে। ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সামলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বাম শিকড় আঁকড়ে ছিলেন। পাম অ্যাভিনিউয়ের ওই দু’কামরার ফ্ল্যাটই ছিল তাঁর সর্বস্ব। ফ্ল্যাট বদলের কথা বললে প্রসঙ্গ পাল্টে দিতেন।

তাঁর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সত্যিই আজকালকার দিনে বিরল। সেই কারণে তো রাজ্যের পালাবদলের কাণ্ডারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যিনি বুদ্ধবাবুকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন বটে, কিন্তু কোনওদিন তাঁর সম্পর্কে কোনও কুকথা শোনা যায় তাঁর মুখেও। বুদ্ধবাবুর মৃত্যুর খবর পেয়েই গিয়েছিলেন তাঁর বাসভবনে। এদিন পূর্ণদিবস সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুদ্ধবাবুর উদ্দেশে তাঁর প্রার্থনা, “বারবার ফিরে ফিরে আসুন এই বাংলায়”।

Buddhadeb Bhattacharya, hnest politician, certificate, CPM, TMC, Congress, BJP

সৎ রাজনীতিবিদ হিসাবে বারবার উঠে এসেছে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নাম। তাঁর নিজের দলের নেতারা তো বটেই, বিরোধী দলের নেতারাও তাঁকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম যেমন বলেছেন, “ওঁর সততার জন্য ওঁকে অত্যন্ত সম্মান করি”। আবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “মতাদর্শগতভাবে ভিন্ন মেরুর লোক হলেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে আমি অত্যন্ত সম্মান করতাম। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি তাঁর আত্মার সদ্গতি হোক”।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জীবনাবসানে শোকস্তব্ধ কংগ্রেসও। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেছেন, “আদর্শ থেকে পিছপা হননি। যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে কখনও দুর্নীতি, স্বজন-পোষণ করার অভিযোগ আজ পর্যন্ত বাংলার কেউ করতে পারেননি”।

বুদ্ধবাবুর প্রয়াণে শোক বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তাঁর কথায়, “উনি এক জন বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। যিনি একাগ্র ভাবে তাঁর রাজ্যের মানুষের সেবা করেছেন। মানুষের সেবা করাই ছিল তাঁর অঙ্গীকার”।

RELATED Articles