কৃষকদের চাষের জমি বলপূর্বক ভয় দেখিয়ে কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়ে ব্লক প্রশাসনের কাছে ডেপুটেশন দিয়েছেন জমিহারা কৃষকরা। তৃণমূলের পতাকা ও হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ব্লক সভাপতির শাস্তির দাবী তুললেন তারা। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণা-২ নম্বর ব্লকে।
জানা যাচ্ছে, চন্দ্রকোণা-২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল ব্লক সভাপতি প্রসূন ঘোষ জোর করে ভয় দেখিয়ে শতাধিক চাষের জমি কেড়ে নিয়েছেন। এর প্রতিবাদেই ওই ব্লক সভাপতি ও বিধায়ক অরূপ ধারার শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ দেখান কৃষকরা।
তাঁদের অভিযোগ, বাম সরকারের আমলে চন্দ্রকোণা-২ নম্বর ব্লকের বান্দিপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রসূন ঘোষের ভেস্ট হওয়া প্রায় ৪৫ বিঘা চাষের জমি বান্দিপুর, পলাশস, ভগীরথপুর, দেওড়া সহ একাধিক গ্রামের ১০০-র বেশি চাষিকে বণ্টন করা হয়। তারপর ২০১১ সালে সরকার পালাবদলের পরেও সেই জমি চাষিদের ছিল। তারাই দীর্ঘদিন ধরে জমি চাষ করে আসছে।
কিন্তু হঠাৎই এতদিন পর এলাকার কৃষকদের ভয় দেখিয়ে এই জমি কেড়ে নিয়েছেন তৃণমূল ব্লক সভাপতি প্রসূন ঘোষ। আর তাতে মদত দিয়েছেন অরূপ ধারা। এই কারণে গ্রামের কৃষকরা এই দুজনের শাস্তির দাবী জানিয়ে হাতে প্ল্যাকার্ড ও তৃণমূলের পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখান ও জমি ফেরতের দাবী ডেপুটেশনে সামিল হন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবিকে মান্যতা দিয়েছেন চন্দ্রকোণা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হীরালাল ঘোষ। তিনি বলেন, “বিষয়টি জানার পরেই আমি ব্লক ভূমি দফতরের আধিকারিকের দ্বারস্থ হয়ে জানতে পেরেছি, কৃষকরা যে সমস্ত জমির চাষ করছিলেন সেগুলি সবই খাস খতিয়ানের জায়গা। আর আমাদের জমি আন্দোলনে দাঁড়িয়ে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে, তারপরেও কেউ যদি এই ধরনের কৃষকদের জমি কেড়ে নেয় সেটা সরকারবিরোধী ও দলবিরোধী কাজ”।
যদিও জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন ব্লক সভাপতি প্রসূন ঘোষ। তাঁর কথায়, “বাম আমলে আমরা যখন বিরোধী রাজনীতি করতাম তখন আমাদের কিছু জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছিল। এখন চাষিরা জমির কাগজপত্র না দেখাতে পারায় আমাকে জমি ছেড়ে দিয়েছে। তাই আমি আমার জমি চাষ করছি”।






