একের পর এক তৃণমূল নেতা (TMC leader) বিদ্রোহ ঘোষণা করছেন দলের বিরুদ্ধে। দলনেত্রী ও দলের নানান নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন তারা। প্রথমে রাজ্যের মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো (Srikanta Mahato), তারপর তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার (Jahar Sarkar) আর এবার আরও দাঁতনের ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল ব্লক সভাপতি শৈবাল গিরি (Shaibal Giri)।
পশ্চিম মেদিনীপুরের পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন শৈবাল গিরি। সম্প্রতি, দলের এক কর্মীর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথোপকথনের একটি অডিও ভাইরাল হয় (এই অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪৭)। সেখানে শোনা যাচ্ছে যে শুধুমাত্র জেলা নেতৃত্বই নন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন তিনি।
ভাইরাল হওয়া ওই অডিও ক্লিপে শৈবাল গিরিকে বলতে শোনা যায়,“আমরা ভুল জায়গায় রাজনীতি করেছি। এখন সবই পয়সার খেলা,। আইপ্যাক-এর খেলা চলছে। অভিষেক জানেই না আইপ্যাক টাকা নিচ্ছে”। দলনেত্রীর বিরুদ্ধে তিনি বলেন, “আমাদের সঙ্গে নয়, চোর ডাকাতদের সঙ্গে দেখা করছেন দিদি”।

বলে রাখি, সম্প্রতি তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শৈবাল গিরিকে। এরপর ক্যামেরার সামনে ক্ষোভ উগড়ে তিনি বলেন, “দলে সাম্প্রতিক যা ঘটছে তাতে রাস্তাঘাটে মুখ দেখানো যাচ্ছে না। মানুষ নানা প্রশ্ন করছেন। আমি দিদিকেও বিষয়টি বলেছি”।
তাঁর এই ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল। শৈবাল গিরি এই বিষয়ে তিনি বলেন, “দলের এক কর্মী চা খেতে ডেকে আমাদের কথপোকথন ফোনে রেকর্ড করেছেন। আমার ক্ষতি করার উদ্দেশেই সে ওই কাজ করেছে। যদিও আমার কোনও ক্ষতি সে করতে পারবে না। এখন মনে হয় কলেজ জীবন থেকে রাজনীতি করাটাই ভুল হয়েছিল”।
এই প্রসঙ্গে দাঁতনের বিধায়ক বিক্রমচন্দ্র প্রধান বলেন, “পাগলের প্রলাপ বকছেন। তার কথার কী উত্তর দেব। শৈবাল দলের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। দলই তার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে”।
এই বিষয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপিও। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর গুচ্ছাইত বলেন, “আজ শৈবাল গিরি গেছে। কাল অন্য কেউ যাবে। আস্তে আস্তে দলের সমস্ত কর্মীরাই নেত্রীর বিরুদ্ধে চলে যাবে। যার প্রতিফলন শুরু হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতে”।






