কলকাতা পুরসভার বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাজেট নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণ করতে গিয়ে পুরসভায় যৌ’ন সম্পর্ক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরসভায় খ্রিস্ট ধর্মের ফাদার ও নানের যৌ’ন সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর সেই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে বিরোধীরা। এই ঘটনায় শাসক দলও বেশ অস্বস্তিতে।
কাউন্সিলরের মন্তব্যের বিরোধিতা তৃণমূলেরও
যদিও কাউন্সিলরের এহেন মন্তব্যকে কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছে না তৃণমূল। এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুস্মিতা ভট্টাচার্য বলেন, “এই ধরনের স্টেটমেন্ট অযৌক্তিক, কোনও দরকারই নেই। আমাদের সকলের খারাপ লেগেছে”। শাসকদলের আরও এক কাউন্সিলর ক্রিস্টিনা বিশ্বাস এই বিষয়ে বলেন, “ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের মন্তব্য কেউ না করে সেটা দেখতে হবে”।
এই ঘটনায় তৃণমূল কাউন্সিলরের এহেন বক্তব্যের বিষয়ে পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় বলেন, “অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় আপত্তিজনক কিছু থাকলে তা বাদ দেওয়া হবে”।
কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও সাফ জানিয়ে দেন যে দল কাউন্সিলরের এই মন্তব্যকে সমর্থন করে না। তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছি যে ওনার এই মতের সাথে দল একমত নয় এবং দলের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা করে হচ্ছে।
আজ পৌরসভায় বাজেট বক্তৃতায় পৌর প্রতিনিধি অনন্যা বন্দ্যেপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্য সমাজের এক সম্প্রদায়ের মানুষকে আঘাত করেছে।
আমি এই বিষয়ে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছি যে ওনার এই মতের সাথে দল একমত নয় এবং দলের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা করে হচ্ছে এবং ওনার কাছে তৃণমূল কংগ্রেস পৌর দলের…— FIRHAD HAKIM (@FirhadHakim) February 19, 2024
কী বলেছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর?
বাজেট অধিবেশনে অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “বিদেশে ওপেন সেক্স প্রচলিত”। এর পরই গল্প বলতে শুরু করেন অনন্যা। বলেন, “একদিন এক ফাদার গাড়ি করে চার্চে যাচ্ছিলেন। অল্পবয়সি সুন্দরী নান তাঁর কাছে লিফট চান। গাড়িতে ফাদার নানের শরীর স্পর্শ করছিলেন। তখন নান বলেন, ‘আপনি আর্টিকল ১১২ পড়েননি?’ তা শুনে হকচকিয়ে যান ফাদার। চার্চে এসে বাইবেলের আর্টিকল ১১২ পড়ে দেখেন। সেখানে লেখা, ‘গভীরে যাও। আরও গভীরে যাও। তবেই অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছতে পারবে।’ মরাল অফ দ্য স্টোরি, বাইবেলটা ঠিকমতো পড়া থাকলে তিনি নানকে ক্লু দিতে পারতেন। অর্থাৎ বাইবেল হোক বা মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট, যে কোনও কিছু ঠিকমতো পড়া না থাকলে অসুবিধা”।
নিজের মন্তব্যের সপক্ষে সাফাই অনন্যার
যদিও নিজের এহেন মন্তব্যকে কোনওভাবেই ভুল হিসেবে দেখছেন না অনন্যা। তৃণমূল কাউন্সিলরের সাফাই, “কোনও ব্যক্তি বা কোনও সম্প্রদায়কে আঘাত করার আমার কোনও উদ্দেশ্যই নেই। এটা নিছক একটা গল্প। আর যে শব্দ আমি ব্যবহার করেছি সেটাও ব্রাত্য নয়। সামাজিক সম্পর্ক বোঝাতে এই শব্দের ব্যবহার হয়। অযথা জলঘোলা করা হচ্ছে। যৌ’নতা নিয়ে ছুৎমার্গ কাটানোর জন্যই স্কুলে সে’ক্স এডুকেশন চালু করা হচ্ছে”।
তীব্র নিন্দা বিজেপির
তৃণমূল কাউন্সিলরের মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের দাবী, অনন্যা যে শব্দ ব্যবহার করেছেন তা ‘অসংসদীয়’, ‘অসভ্য’। তাঁর কথায়, “সংখ্যালঘুদের অসম্মান করেছেন তৃণমূল কাউন্সিলর”। অনন্যার সদস্যপদ খারিজের দাবীও করেন সজল ঘোষ।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!