তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ, গ্রেফতার তৃণমূল নেত্রী, হইচই গোটা এলাকায়

আজ, সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমেই তিনি যাবেন মালদহে। আর সেখানেই তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন দলেরই সদস্যরা।

জানা গিয়েছে, মালদহের মানিকচক থানার নুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান আরতি সরকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর পাশাপাশি আবার পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক মিলন ঘোষের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০১৮ সালে নুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন আরতি সরকার। তিনি সিপিআইএমের টিকিটে জিতলেও পরবর্তীতে দলবদল করে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁর বিরুদ্ধেই আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের *৯ জন সদস্যই এই অভিযোগ তুলেছেন।

তাদের অভিযোগ, আরতি সরকার বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মানিকচকের বিডিওর কাছে তারা প্রথমে এই অভিযোগ তোলেন। এরপরও তথ্য জানার অধিকার আইনে অভিযোগ জানান। কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয় এই নিয়ে। সেই ভিত্তিতেই আদালত সেখানকার তৎকালীন জেলাশাসক কৌশিক মুখোপাধ্যায়কে তদন্তের নির্দেশ দেন।

আর তদন্ত করতেই আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসে। জানা গিয়েছে ২৬ লক্ষ ৬৮ হাজার ২২৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন ওই প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান। আর এই টাকা সংক্রান্ত কোনও নথি দেখাতে পারেন নি আরতি বা মিলন কেউই। এরপর আরতি ও মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন মানিকচকের তৎকালীন বিডিও সুরজিৎ পণ্ডিত।

একথা জানতে পেরেই গা ঢাকা দেয় অভিযুক্তরা। আদালতে পাল্টা আবেদন করেন আরতি। আত্মসাৎ করা টাকা ফিরিয়ে দেবেন বলে জানান তিনি। এতে কিছুটা মীমাংসা হয়। কিন্তু সরকারি তহবিলে টাকা জমা করেন নি আরতি। এরপরই আদালতের নির্দেশেই আরতি ও মিলনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত শনিবার মানিকচক থানার পুলিশ গ্রেফতার করে আরতিকে।

এই বিষয়ে পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য লিয়াকত খান বলেন, “শুধু ২৬ লক্ষ টাকা নয়। এক কোটিরও বেশি টাকা নয়ছয় করেছেন আরতি”। এই ঘটনা সামনে আসতেই এই নিয়ে প্রচার শুরু করেছে বিজেপি এবং সিপিআইএম। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইন আইনের পথে চলবে বলেই স্বচ্ছতা তুলে ধরা হচ্ছে। তবে এতগুলো টাকা এখন ফেরত পাওয়া যাবে কী না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

RELATED Articles