বেরিয়ে তৃণমূলের যুব সভাপতির নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতারও রীতিমতো তারিফ করেন তিনি । এরপরই আজ রবিবার শতাব্দীকে বড় দায়িত্ব দিল তৃণমূল। তাঁকে দলের রাজ্য কমিটির সহ সভাপতি করল শাসক দল। একইসঙ্গে মোয়াজ্জেম হোসেন ও শঙ্কর চক্রবর্তীকেও সহ সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
হঠাৎ করে বঙ্গ রাজনীতির লাইমলাইটে এসে পড়া শতাব্দী কি বলছেন নতুন পদ পেয়ে? ‘আমি দলের কাছে কৃতজ্ঞ। এই দায়িত্ব অনেক বড়। মন দিয়ে কাজ করতে হবে। তৃণমূলেই ছিলাম, আছি, থাকব। তৃণমূলই আগামী ভোটে জিতবে।’ তাহলে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখালেন কেন? শতাব্দীর উত্তর, ‘একসঙ্গে কাজ করতে গেলে নানা সমস্যা হয়। তা মিটে গিয়েছে। এখন একযোগে কাজ করার সময়।’
গত শুক্রবার যে ভাবে অভিষেক তাঁর সমস্যা শুনেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেছেন, তাতে শতাব্দীর মনে হয়েছে, তাঁর মতো ক্ষোভ তৃণমূলের যে নেতা-নেত্রীদের রয়েছে, তাঁদের সেই ক্ষোভ দলের মধ্যেই সমাধান সম্ভব। তাই, তৃণমূল নেতাদের মধ্যে এখন যাঁরা ‘বেসুরো’, তাঁরা যাতে প্রকাশ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভের কথা বলে প্রতিপক্ষর সুবিধে করে না-দেন এবং একসঙ্গে কাজ করেন, সেই আহ্বান জানিয়েছেন বীরভূমের সাংসদ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দলত্যাগের ইঙ্গিত দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়।
কি লিখেছিলেন তিনি? নিজের ফেসবুক পোস্টে এই প্রাক্তন অভিনেত্রী লেখেন, ‘সমস্যার কথা দিদিকে জানালে কি সমস্যার সমাধান হবে? তা হলে জানাব। আমার কাল দিল্লি যাওয়া নিশ্চিত। অমিত শাহ-র সঙ্গে দেখা হবে মানেই এটা নয় যে বিজেপি-তে যোগ দেব। বিজেপি-তে যোগ দেব না, এমনও নয়। আমি এমপি। দরকার থাকতেই পারে। আমাকে দলের মধ্যের মানুষরাই কাজ করতে দিচ্ছেন না। দল খুঁজে বের করুক, কারা এমন করছেন।’
আর শতাব্দী এহেন পোস্ট দেখেই আতঙ্কে ভুগতে থাকে তৃণমূল শিবির। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাতে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তাঁর সঙ্গে শতাব্দীর মুখোমুখি বৈঠকে জট কাটে। ওই বৈঠকের পর শতাব্দী নিশ্চিত করেন তিনি তৃণমূলেই রয়েছেন।





