সামনেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রচার শুরু করেছে নানান রাজনৈতিক দলগুলি। পিছিয়ে নেই তৃণমূল। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোট প্রচার করছেন নানান তৃণমূল নেতারা। সোমবার সবংয়ের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারে গিয়ে মানস ভূইঁয়া। এলাকাবাসীর থেকে ভোট চাওয়ার সময় তাদেরকেই অশ্রাব্য ভাষায় উত্তর দিলেন সেই নেতা। জনসমক্ষেই কখনও কর্মীদের চড় মারছেন তো কখনও বলছেন কানে আঙুল দেওয়া অশ্রাব্য ভাষা। এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরই নিন্দার ঝড় উঠেছে চারিদিকে।
আসল ঘটনাটি ঠিক কী? সোমবার সবংয়ের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভোট প্রচারে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা মানস ভূইঁয়া। কিন্তু ভোট চাওয়ার প্রসঙ্গেই ওঠে নতুন বাড়ির জন্য টাকা দেওয়ার কথা। তখন স্থানীয় তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষজন তাঁর কাছে জানতে চান কেন এতদিন হয়ে যাওয়ার পরও তাঁরা কেন সরকারি সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেননা? আবাস যোজনায় বাড়ি পাননি তাঁরা। মানস ভূইঁয়া বলেন “আপনাদের বেশিরভাগই বাড়ি পাওয়ার যোগ্য এবং শীঘ্রই পেয়ে যাবেন”। মানুষজন বলেন, তাঁরা বাড়ি পাবেন এটা তারাও জানেন কারন তাঁদের তালিকায় নাম রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল তা সত্ত্বেও কেন এতদিন তাদের ঘর হয়নি? কেউ কেউ অভিযোগ করেন ‘কাটমানি’ না দেওয়ার জন্যই কী তাঁদের বাড়ি হচ্ছেনা?
অনেকেই বলেন, তাদের ভাঙা বাড়ি, কিন্তু সরকারের আবাস যোজনায় পাকা বাড়ির জন্য আবেদন করলেও কোনও টাকা দেওয়া হয়নি। এই হিসাব চাইতেই রীতিমতো গর্জে ওঠেন ওই তৃণমূল নেতা। অশ্রাব্য ভাষায় উত্তর দেন ও তালিকা দেখতে চান যে ক’টা বাড়ির জন্য টাকা আসেনি। মানস ভূইঁয়া এরপরই তাঁর কর্মীদের কাছে জানতে চান কতজনের বাড়ি এসেছে এই এলাকায়? কর্মীরা জানান প্রায় ২৫০জনের কাছাকাছি। কিন্তু সরকারি দফতর তালিকা দেয়নি।
এরপরই ভূইঁয়া বলেন, বিষয়টা কেন তাঁকে জানানো হয়নি। বলেই এক কর্মীকে হাতের মোবাইল দিয়ে গালে চড় মারেন। স্থানীয় কয়েকজন মহিলা তাঁকে বলেন, আমার ভাঙা বাড়ি দেখে আসবেন চলুন, এরকম নানান ক্ষোভ বিক্ষোভ চলতে থাকে। তিনি তখন জোর গলায় এও বলেন যে, “তফশিলি জাতির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করেছেন, তা কেউ করেনি”। তৃণমূল নেতার গালিগালাজ দেওয়ার এ ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভোটের মুখে এমন একটি ঘটনার জেরে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল।





