নারদ কাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র রাজ্যের পরিচিত রাজনৈতিক নেতা তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু এই গ্রেফতারি সম্পূর্ণ বেআইনি, এমনটাই দাবী করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে।
বেআইনি গ্রেফতারির অভিযোগ তুলে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এদিন, গড়িয়াহাট থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন- ভেড়ার পাল নিয়ে রাজ ভবনের সামনে অভিনব প্রতিবাদ! অসন্তোষ প্রকাশ করে সবিস্তার রিপোর্ট তলব রাজ্যপালের
এদিন গড়িয়াহাট থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৬৬/১৬৬এ/১৮৮/৩৪ এবং ডিএম আইনের ৫১(বি) ধারায় সিবিআই-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃণমূলের তরফে দাবী করা হয়েছে, ১৭ই মে ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা ছিল বেআইনি পদক্ষেপ। এই কারণে সিবিআই-এর এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করার কৌশল অবলম্বন করল রাজ্যের শাসক দল।
গত সোমবার নারদ কাণ্ডে চার নেতা-মন্ত্রীকে গ্রেফতারির পরই নিজাম প্যালেসে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এই একই অভিযোগ উঠেছে আইনমন্ত্রী মলয় ঘটকের বিরুদ্ধেও৷ তিনি শুনানির সময় ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজির হয়েছিলেন, এই কারণে সিবিআইয়ের তরফে তাঁদেরও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। এই একই অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এই মামলায় যোগ করেছে সিবিআই৷
বলে রাখি, গত সোমবার সকালে নারদ মামলায় পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে সিবিআই। বিকেলে নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান তাঁরা। কিন্তু গতকাল রাতেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিবিআই। এরপর হাইকোর্ট এই চার নেতামন্ত্রীর জামিনে বুধবার পর্যন্ত স্থগিতাদেশ জারি করে। এর ফলে রাতে জেলেই কাটাতে হয় এই চার প্রভাবশালী নেতামন্ত্রীদের।





