তৃণমূল লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই দলের প্রতি ক্ষোভ বর্ষণ করছেন একের পর এক নেতা। কারণ? লোকসভা ভোটের টিকিট না পাওয়া। এর আগে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন অর্জুন সিং, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার পালা শান্তনু সেনের। টিকিট না পেয়ে খুবই আশাহত তৃণমূলের রাজ্যসভার বিদায়ী সাংসদ।
আজ, মঙ্গলবার সকালেই টিকিট না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়। এও বলেন, তিনি নির্দলের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন। যদিও এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগের কথা বললে সুর নরম হয় তাঁর। নিজের ভুল শুধরে বলেন, “দিদির কথা আমার কাছে আশীর্বাদ। নির্দল হিসেবে লড়ব না”। তবে সুর নরম হয়নি অর্জুনের। জল্পনা, তিনি হয়ত বিজেপিতে ফিরে যাবেন বা নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়বেন। এসবের মধ্যেই এবার বেসুরো শান্তনুও।
কী বললেন শান্তনু সেন?
শান্তনু বলেন, “আমি তৃণমূলের একজন অনুগত সৈনিক, দল ছাড়া কিছু বুঝি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে রাজ্যসভায় কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ৬ বছর প্রাণপাত করে কাজ করেছি। পরিসংখ্যান বলবে, অন্য অনেকের থেকে আমার পারফরম্যান্স কত ভাল ছিল। বিজেপির বিরোধিতার ক্ষেত্রেও আমি অগ্রপশ্চাৎ না ভেবে উগ্রভাবে বিজেপি বিরোধিতা করেছি। ভেবেছিলাম, পুর্নমূল্যায়ণ হবে”।
টিকিট না পাওয়ায় আশাত হয়েছেন নেতা। তাঁর কথায়, “আশা করেছিলাম, লোকসভার টিকিট পাব। সেটা হয়নি। ফলে দুঃখ আছে, কষ্ট আছে, চোখে জল আছে। তবে এটা বিশ্বাস করি, আজ মূল্যায়ণ হয়নি, পরে নিশ্চয়ই হবে”।
একের পর এক তৃণমূলে নেতাদের এমন বিক্ষোভের পর দলের একাংশের প্রশ্ন, তারা কেন নিজেদের ক্ষোভের কথা দলের অন্দরে না জানিয়ে সংবাদমাধ্যমে জানাচ্ছেন। তাদের কথায়, দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করলেন, সেখানে যে দলের ক্ষতির প্রশ্নে তিনি কাউকেই রেয়াত করবেন না, তা তো স্পষ্ট।
যদিও শান্তনুর কথায়, “আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আমার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হ্যাঁ আমি পাইনি আমার খারাপ লেগেছে। কিন্তু, যেটুকু পেয়েছি সেটাও তো দলের জন্য পেয়েছি। তার জন্য তো অকৃতজ্ঞ হতে পারব না”।





