ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। দলের বিধায়ক তথা জেলা সভাপতিকে ‘হরিদাস পাল’ বলে কটাক্ষ করলেন প্রাক্তন জেলা সভাপতির ঘনিষ্ঠ নেতা। একটি দলীয় কর্মীসভা থেকে বিধায়কের বিরুদ্ধে নানান আক্রমণ শানাতে শোনা যায় তাঁকে। তৃণমূল নেতার এমন মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়ে বিধায়ক তথা জেলা সভাপতি বলেন যে ওটা কোনও দলীয় সভা ছিল না।
তৃণমূলের এমন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামনে এক বর্ধমানের কাটোয়ায়। সেখানে একটি সভামঞ্চ থেকে কাটোয়ার বিধায়ক তথা বর্ধমান তৃণমূল জেলা সভাপতির রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তাঁকে চরম কটাক্ষ করলেন তৃণমূল জেলা সম্পাদক অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রাক্তন জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
আরও পড়ুন- কড়া ঘেরাটোপের মধ্যে ভোট, ভবানীপুরের সবকটি বুথেই জারি করা হল ১৪৪ ধারা
এক সভা থেকে অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানিয়ে বলেন যে তিনি নাকি অনেক দলীয় কর্মসূচিতে অনেক তৃণমূল কর্মীদের ডাকেন না। এই সভা থেকেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃনমূলে আসা বিধায়ক তথা দলের জেলা সভাপতিকে নাম না করেই কটূক্তি করে তিনি বলেন, “পুরনো তৃনমূল কর্মীদের কোনও অসম্মান হতে দেব না। দলের ঝাণ্ডাটাকে কেড়ে নিতে চায় ওরা”। বিধায়কের আরও কটাক্ষ করে তৃণমূল নেতা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেকের নামে স্লোগান দিতে কোনও হরিদাস পালের অনুমোদন লাগবে না, কোনও হরিদাস পালের অনুমতি নেব না। পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই”।
তৃণমূল নেতার আক্রমণ শানিয়ে বলেন যে যারা ২০১৫ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালাগালি দিত আজ তারাই দুর্ভাগ্যক্রমে তৃণমূলে কাটোয়ার ক্ষমতায় আছে। এমনকি তিনি বিধায়কের সম্পত্তি নিয়েও আক্রমণ করেবন। তাঁর কথায়, “২০১৬ সালের পর আপনি ও আপনার শাকরেদরা যারা তৃনমূলে এসেছেন তাঁদের সম্পত্তির হিসেব করুন। চোরের মায়ের বড় গলা”। তিনি এও বার্তা দেন যে কোনও পুরানো কর্মীর অসম্মান হতে দেবেন না। বিধায়কের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সংযত হয়ে যান। আপনি এমন কোনও হরিদাস পাল নন যে আপনাকে মাথায় করে রাখতে হবে। আমি ছেড়ে কথা বলব না”।
আরও পড়ুন- ভবানীপুর ও শান্তিপুরকে এক করে দেখার কোনও মানে হয় না, তবে কী ফের জোট বাঁধছে বাম-কংগ্রেস?
অরিন্দমের এই মন্তব্যের পর পাল্টা বিধায়ক তথা জেলা সভাপতির স্পষ্ট জানিয়ে দেন এটি দলের কোনও কর্মিসভা নয়। তিনি বলেন, “ও অরিন্দমকে আমি চিনি না”। তাঁর দাবী, দলের পতাকা ব্যবহার করলেই দলীয় সভা হয়ে যায় না। আবার পাল্টা অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “জেলা সভাপতি দলের কর্মীদের যদি না চেনে তাহলে লজ্জ্বার বিষয়। তৃনমূল দলের এই গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল কাটোয়া শহরে”।





