দিনে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন একঝাঁক কর্মী, রাত নামতেই ফিরে গেলেন তৃণমূলে, কী নাটক চলছে বঙ্গ রাজনীতিতে?

দিনের আলোতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন একঝাঁক তৃণমূল কর্মীরা। কিন্তু রাতের অন্ধকার নামতেই ফের বদলে গেল তাদের রাজনৈতিক অবস্থান। সেই রাতেই ফের ঘর ওয়াপসি করলেন তারা। ফিরে গেলেন ফের তৃণমূলেই। এ যেন এক নাটকীয় দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বঙ্গ রাজনীতি।

কোথায় ঘটেছে এই ঘটনা?

ঘটনাটি ঘটেছে বালুরঘাটে। গতকাল, রবিবার সকালেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বালুরঘাট পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। সঙ্গে এদিন বিজেপিতে যোগ দেন কিছু বাম কর্মীও। এদিন বিজেপির জেলা কার্যালয়ে তাদের হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে দেন বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার ও টাউন সভাপতি সমীর প্রসাদ দত্ত। যোগদানকারীরা এদিন জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের কাজ ভালো লাগে বলেই তারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বিজেপির হয়ে কাজ করার অঙ্গীকারবদ্ধ হন তারা।  

দিনে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন একঝাঁক কর্মী, রাত নামতেই ফিরে গেলেন তৃণমূলে, কী নাটক চলছে বঙ্গ রাজনীতিতে?

এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু অন্ধকার নামতেই ঘটে গেল পাল্টি। এদিন রাতেই আচমকাই বিজেপি ছেড়ে দিয়ে ফের তৃণমূলে যোগ দেন তৃণমূল ছেড়ে আসা কর্মীরা। এদিন বালুরঘাট পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কার্যালয়ে গিয়ে ঘর ওয়াপসি করেন তারা। এদিন তাদের হাতে ফের তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন কাউন্সিলর বিপুল কান্তি ঘোষ।   

হঠাৎ কেন এমন দলবদল?

এই ঘটনায় তৃনমূলে যোগদানকারী নারায়ণ রবি দাস জানান, “আমরা আত্রেয়ী নদীর ঘাটে গিয়েছিলাম। কাজ সেরে ফেরার পথে আমাদের পথ আটকে বিজেপি কার্যালয় নিয়ে যাওয়া হয়। এবং জোর করে বিজেপিতে যোগদান করানো হয়। আমরা বাড়ি ফেরার পর বিষয়টি বুঝতে পেরে তৃণমূলে যোগদান করি”।

বালুরঘাট পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিপুল কান্তি ঘোষ বলেন এই প্রসঙ্গে বলেন, “বিজেপির নক্কার নক ঘটনা ঘটিয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। আমরা তৃণমূল কর্মীদের ভুল বুঝিয়ে এবং তাঁদেরকে জোর করে বিজেপিতে যোগদান করানো হয়েছিল। তাঁরা আজ আবার আমাদের হাত ধরল। এবং আগামী লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়েই তাঁরা কাজ করবেন”।

কী প্রতিক্রিয়া বিজেপির?

এই বিষয়ে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকারের বক্তব্য, “যাঁরা যোগদান করেছিল তাঁদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাই হয়তো তাঁরা ভয়ে তৃণমূলে ফিরে গিয়েছেন। তবে তাঁদের মনের ভিতর বিজেপি রয়েছে। সেটাকে তৃণমূল বের করতে পারবে না”।

RELATED Articles