প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়েও দেওয়া হয়নি চাকরি, দুই তৃণমূল নেতাকে বেধড়ক পেটালেন চাকরিপ্রার্থী ও গ্রামবাসীরা

রাজ্যে এখন চারিদিক থেকে নানান দুর্নীতির (corruption) ঘটনা সামনে আসছে। কেউ কেউ পরীক্ষা না দিয়ে চাকরি (employment) পেয়েছেন, কেউ আবার পরীক্ষায় পাশ না করে পেয়ে গিয়েছেন চাকরি। কেউ কেউ আবার টাকার জোরে চাকরি পেয়েছেন। আর এর জেরে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরাই চাকরি থেকে বঞ্চিত। আন্দোলনের (protest) পথে নেমেছেন তারা।

কোথাও কোথাও যেমন টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, ঠিক তেমনই আবার কোথাও কোথাও মোটা টাকা হাতানোর পর চাকরি না দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এমনই একটি ঘটনা ফের সামনে এল উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থেকে। টাকা নেওয়ার পরও চাকরি না দেওয়ায় দুই তৃণমূল নেতাকে বেধড়ক মারধর করলেন চাকরিপ্রার্থীরা।

ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াগঞ্জের বিরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের শাকধুয়া জামবাড়ি গ্রামে। গতকাল, মঙ্গলবার রাতে সেই এলাকায় কিছু চাকরিপ্রার্থী দাবী করেন কে এলাকার দুই তৃণমূল নেতা তিলক দাস ও ভদ্রু বর্মণ নাকি তাদের থেকে মোটা টাকা হাতিয়েছেন চাকরি দেওয়ার নামে। কিন্তু শেষমেশ চাকরি আর হয়নি তাদের।

এই ঘটনায় গোটা এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য ছড়ায়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা গ্রাম। এদিকে জানা যাচ্ছে যে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই ওই দুই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে এলাকাতে দেখা যাচ্ছিল না। তবে গতকাল রাতে তাদের স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের কার্যালয়ের সামনে দেখা যায়।

অভিযুক্ত তিলক দাস ও ভদ্রু বর্মণকে হাতের সামনে পেয়েই নিজেদের সমস্ত রাগ উগড়ে দেন চাকরিপ্রার্থীরা। মারধর শুরু করেন দুই তৃণমূল নেতাকে। চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন গ্রামবাসীরাও। বেধড়ক মারধর করা হয় অভিযুক্ত দুই তৃণমূল নেতাকে। বেশ গুরুতর অবস্থায় পৌঁছে যায় পরিস্থিতি।  

এই খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তৃণমূল নেতা সুব্রত সরকার। তিনি বলেন, “আমি সমস্ত ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি। তবে এক্ষেত্রে মারামারি করে সমস্যার সমাধান বেরোবে না। আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করাই একমাত্র রাস্তা”। সুব্রতবাবুর হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

আরও অন্যান্য খবর