সামনেই ধুলিয়ান ও জঙ্গিপুর পুরসভার নির্বাচন। এরই মধ্যে সামনে এল মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন বিধায়ক আমিরুল ইসলাম। তাঁর কথায় বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান নাকি কংগ্রেসের হয়ে কাজ করেছেন।
গতকাল, রবিবার জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল বিজয়া সম্মেলন আয়োজন করে। এদিনের এই অনুষ্ঠানে জেলার ২০ বিধায়ক, ৩ সাংসদ, দুই মন্ত্রীর মধ্যে মাত্র পাঁচ জন উপস্থিত হয়েছিলেন ওই অনুষ্ঠানে। সামশেরগঞ্জের বিধায়ক আমিরুল ইসলাম, রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান, সাগরদিঘির বিধায়ক সুব্রত সাহা, সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস ও খড়গ্রামের বিধায়ক আশীষ মার্জিত এদিন নিজের কেন্দ্রে থাকলেও জেলা সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমানের ডাকা জঙ্গিপুরের বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন নি। অন্যদিকে আমন্ত্রণ পেয়েও হাজির হন নি মুর্শিদাবাদের সাংসদ তথা মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান আবুতাহের খান, সভাপতি শাওনি সিংহরায়, জঙ্গিপুর সাংগঠনিক যুব সভাপতি হাবিব পারভেজ টনি।
রবিবার সন্ধ্যায় সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান তৃণমূল কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিধায়ক আমিরুল ইসলাম। সেখানে জেলা সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, “সামশেরগঞ্জ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে আমাকে হারাতে সাংসদ ও সাংগঠনিক জেলা সভাপতি খলিলুর রহমানের পরিবার প্রকাশ্যে কাজ করেছে। তবু্ও জনগনের আর্শীবাদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছি। নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী জইদুর রহমানকে জেতাতে খলিলুর রহমানের ছেলে, আপ্ত সহায়ক, তার সোশ্যাল মিডিয়ার পুরো টিম ও নূর বিড়ির সমস্ত কর্মচারী কংগ্রেসের হয়ে প্রকাশ্যে ভোট প্রচার করেছে। টাকা খরচ করেছে”।
তিনি আরও বলেন, “সাংসদ খলিলুর রহমানের নিজের বুথ ৭২ নম্বরে তৃণমূল ভোট পেয়েছে মাত্র ৭২ টি। ৭৫ নম্বর বুথে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৮৩। যারা তৃণমূল প্রার্থীকে হারাতে প্রকাশ্যে কংগ্রেসের হয়ে কাজ করেছে তাদের নিয়ে এখন বিজয়া সম্মেলন করা হচ্ছে। খলিলুর রহমানের এই দ্বিচারিতার জন্য আমি অনুষ্ঠানে যাইনি। বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানান হয়েছে”।
এদিকে আমিরুল ইসলামের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, এমনটাই দাবী করেছেন সাংসদ। তাঁর কথায়, “১৬ আগস্ট জঙ্গিপুর নতুন সাংগঠনিক জেলা হিসাবে ঘোষণা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সাংগঠনিক জেলার মিটিং করা হয়েছে। সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর বিধানসভার নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে দল ভালো ফল করেছে”।
এর পাশাপাশি এদিনের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি সাংসদের বক্তব্য, “বিজয়া দশমীর পর রবিবার সাংগঠনিক জেলার বিজয়া সম্মেলনীর আয়োজন করা হয়েছিল। সাংগঠনিক জেলার ৯ জন মন্ত্রী ও বিধায়কের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শাওনি সিংহ রায়, চেয়ারম্যান সাংসদ আবু তাহের খান ও বীরভূমের বোলপুরের সাংসদ অসিত মালকে আমন্ত্রণ জানান হয়েছিল। আমিও ব্যক্তিগত ফোন করে কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। দু’জন বিধায়ক চিকিৎসার জন্য ব্যাঙ্গালুরু ও তামিলনাড়ুতে রয়েছেন। বাকি বিধায়করা আসেননি কেন বলতে পারব না”।





