রাজ্য

অতিদরদী নেতা! প্যাচপ্যাচে গরম, এলাকায় জলকষ্ট, তীব্র দাবদাহের মধ্যে জনসেবা করতে কম্বল বিতরণ তৃণমূল বিধায়কের, কটাক্ষ বিরোধীদের

বৈশাখের তীব্র দাবদাহে গোটা রাজ্য পুড়ছে। কাঠফাটা গরমের জেরে নাজেহাল মানুষজন। সকলেই চাতক পাখির মতো চেয়ে রয়েছেন আকাশের দিকে যে কবে একফোঁটা বৃষ্টির দেখা মিলবে। আর এই গরমের মধ্যে জনসেবা স্বার্থে নদিয়ার করিমপুরের তৃণমূল বিধায়ক এমন এক কাণ্ড করে বসলেন যে তা নিয়ে হাসাহাসি করছেন সকলেই।

এমন প্যাচপ্যাচে গরম যেখানে মানুষের টেকা দায় হয়ে পড়েছে। আর নদিয়ার দিকে তো তাপমাত্রা পার করেছে ৪২ ডিগ্রি। এমন অবস্থায় বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায় দরিদ্রনারায়ণ সেবা করলেন। আর তাতেই ঘটালেন অবাক কাণ্ড। জনসেবায় এই গরমের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেছেন তিনি। যা নিয়ে গোটা এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ওই এলাকার অনেক জায়গাতেই জলকষ্ট দেখা দিয়েছে। ওভারলোডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা না করে বিধায়কের এই কম্বল বিলি করার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। বিরোধীদের সমালোচনা আর কটাক্ষের বন্যা বইছে। খবর চাউর হতেই সাধারণ মানুষ মুখ টিপে হাসছেন।

যদিও সেসবে বিশেষ আমল দিতে নারাজ বিধায়ক। তাঁর কথায়, শনিবার ইদ আর সেই কারণেই তিনি গরীব মানুষদের জামাকাপড়-সহ কম্বল বিতরণ করেছেন। তাঁর কথায়, “আসন্ন ইদ উপলক্ষে বিধানসভার বিভিন্ন জায়গাতে বস্ত্র বিতরণ করছি। ধুতি-কাপড়ের সঙ্গে বেশ কিছু কম্বল মজুত ছিল। যদি সাধারণ মানুষের কাজে লাগে সেই জন্য সেগুলি দিয়েছিলাম”।

নিজের এই কাজের জন্য সাফাই দিয়ে বিম্লেন্দু সিংহ রায় বলেন, এখন কাজে না লাগলেও পরবর্তীতে তো সেই কম্বল কাজে লাগবে সাধারণ মানুষেরই। সেই কথা ভেবেই নাকি তিনি সেই কম্বলগুলি গরমের মধ্যে বিতরণ করে দেন। সঙ্গে ধুতি-কাপড়ও দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, আগামী ২৩ তারিখের আগে নদিয়ায় তাপমাত্রা কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। আজকেও সেই জেলায় তাপপ্রবাহের হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামীকালও তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি রয়েছে নদিয়ায়। বৃহস্পতিবার এই জেলায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি না হলেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকবে বলে জানা গিয়েছে। আগামী শনিবার দক্ষিণবঙ্গের কিছু কিছু জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

Back to top button
%d bloggers like this: