‘নুসরত, মিমি, জুন মালিয়ারা লুটেপুটে খাচ্ছে আর তারাই দলের সম্পদ’, শ্রীকান্ত মাহাতোর বিতর্কিত মন্তব্যে অস্বস্তিতে তৃণমূল, শোকজ করা হল রাজ্যের মন্ত্রীকে

দলের নানা নেতা-মন্ত্রীর তোপ দাগলেন রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা শালবনির বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো (Srikanta Mahato)। এর পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চল নাগরিক সমিতি গড়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তিনি। এক দলীয় বৈঠকে তিনি বলেন যে জুন মালিয়া (June Malia), মিমি (Mimi Chakraborty), সায়ন্তিকা, নুসরতের মতো খারাপ লোকেরা লুটেপুটে খাচ্ছে আর দল (TMC) তাদেরকেই সম্পদ বলে মনে করছে। তাঁর এহেন মন্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় (যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪x৭)। আর এই ভিডিও সামনে আসতেই বিধায়ককে শোকজ করল দল।

গতকাল, শনিবার দলীয় কর্মীদের নিয়ে শালবনির বৈঠকে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছিল বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতোকে। ভিডিওতে একটি চেয়ারের উপর বসে থাকতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। আর তাঁর পাশে মাটিতে প্লাস্টিক বিছিয়ে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে দলের কর্মী সমর্থকদের।

সেই বৈঠকেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জুন মালিয়া, মিমি, সায়ন্তিকা, উত্তরা সিং হাজরাদের মতো খারাপ লোকেরা যারা লুটে পুটে খাচ্ছে তারা যদি দলের সম্পদ হয় তাহলে এই পার্টিটা আর করা যাবে না। এভাবে তো দল করা যায় না। প্রয়োজনে সামাজিক আন্দোলন করতে হবে”। এর পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে পশ্চিমাঞ্চল নাগরিক সমিতি তৈরি করারও বার্তা দেন রাজ্যের মন্ত্রী।

শ্রীকান্ত মাহাতোর এমন মন্তব্যের জেরে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল। এই ভিডিও ভাইরাল হতেও তা পৌঁছয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তাঁর নির্দেশেই শোকজ করা হয় মন্ত্রীকে। এই পত্রে লেখা হয়েছে যে রাজ্যের একাধিক নেতা-মন্ত্রীকে অপমান করেছেন শালবনির বিধায়ক। আগামী সাতদিনের মধ্যে তাঁর কাছ থেকে জবাব চেয়েছে দল।

এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে তোপ দাগতে ছাড়ে  নি বিজেপি। এই প্রসঙ্গে জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শংকর গুচ্ছাইত বলেন, “মন্ত্রীর বিলম্বিত বোধোদয় হয়েছে। তবে নাগরিক সমিতির নামে তিনি মাওবাদী ঢোকানোর পরিকল্পনা করছেন”।

RELATED Articles